দেশজুড়ে একই সময়ে বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন হাইকোর্টের - 24 Ghanta Bangla News
Home

দেশজুড়ে একই সময়ে বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন হাইকোর্টের

দেশজুড়ে একযোগে বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। এই পদক্ষেপ নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পিত কৌশল কাজ করছে, তা স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে প্রশ্ন করে, ঠিক কী কারণে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের অভিযান শুরু হল? বিশেষ করে জুন মাসকেই কেন বেছে নেওয়া হল?

আরও পড়ুন: ১৫ বছর পর মাদ্রাসায় গ্রুপ-ডি নিয়োগে কাটল আইনি জট, ছাড়পত্র দিল হাইকোর্ট

আদালতের পর্যবেক্ষণ, একাধিক জায়গায় যদি একসঙ্গে কোনও অভিযান হয়, তার পিছনে স্বাভাবিক ভাবেই যৌক্তিক কারণ থাকার কথা। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সে রকম কোনও কারণ স্পষ্ট নয় বলেই মনে করছে বেঞ্চ। বিচারপতি চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, ‘বাংলায় কথা বললেই কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে সন্দেহ করে গ্রেফতার করা হলে, সেটা উদ্বেগজনক। এতে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে।’

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, পহেলগাঁও হামলার পরে নিরাপত্তার দিক থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাংলা বলা মানেই কাউকে আটক করা হয়নি। সন্দেহের ভিত্তিতে ১৬৫ জনকে আটক করা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে মাত্র পাঁচ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং তাঁরাই নাকি নিজে স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বাংলাদেশি নাগরিক।

অন্য দিকে, মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোককুমার চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেন, একই বিষয়ে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই ব্যক্তি এখানে মামলাকারী হয়েছেন এবং তথ্য গোপন করে মামলা দায়ের করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। যদি সত্যিই কাউকে শুধুমাত্র বাংলা বলার জন্য হয়রানি করা হয়ে থাকে, তবে তা সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, কে ভারতীয় নাগরিক এবং কে নয়, সেটি নির্ধারণের পদ্ধতি কী ছিলতা স্পষ্ট করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়া ও তথ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে হলফনামা দিতে হবে আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে। তার পর ৪ অগস্ট হবে পরবর্তী শুনানি। এই বিতর্ক এখন কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান ও যুক্তির উপর নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *