Dhupguri: জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ৯১, প্রহর গুনছে স্বাস্থ্য দফতর – Bengali News | Dhupguri 91 dengue patients in the district, health department is counting the days
বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা Image Credit source: TV9 Bangla
ধূপগুড়ি: বর্ষার শুরুতেই জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ৯১, চিন্তায় স্বাস্থ্য দফতর। জেলা জুড়ে চলছে বিশেষ অভিযান। বর্ষার শুরুতেই জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন ব্লকে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। জেলার ছয়টি ব্লক—নাগরাকাটা, ধূপগুড়ি, বনারহাট, মেটেলি, মালবাজার ও ময়নাগুড়ি থেকে একের পর এক আক্রান্তের খবর উঠে আসছে। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৯১। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ময়নাগুড়ি ও নাগরাকাটা ব্লকে।
ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ৩ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে একজন, গোপাল মণ্ডল বলেন,”বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর ছিল। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়, আমার ডেঙ্গি ধরা পড়েছে। তারপর ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে এনে আবার ভর্তি করা হয়। আমার মতো আরও তিনজন ডেঙ্গি রোগী এখানে ভর্তি আছেন। পাপো এলাকায় অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত—তাদেরও ডেঙ্গি হতে পারে।”
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক স্বাস্থ্য দফতর তৎপর। প্রতিটি ব্লকে ডেঙ্গি-প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা। চা-বাগান সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল ও বস্তিগুলিতে রাখা হয়েছে বাড়তি নজরদারি।
জেলায় গঠিত একাধিক বিশেষ টিমে রয়েছেন আশা কর্মী, এনএম ও বিডিও দফতরের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা, সংক্রমণ নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছেন।
পুরসভা, পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে চলছে ব্লিচিং পাউডার ও কীটনাশক ছড়ানো। জলাবদ্ধ, ঘাসে ভর্তি এলাকায় শুরু হয়েছে স্প্রে অভিযান। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পাড়া, স্কুল ও ক্লাব চত্বরে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, ক্যাম্প এবং কিছু এলাকায় রোড শো-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
ধূপগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক অঙ্কুর চক্রবর্তী বলেন, “বর্ষার শুরুতেই ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। বর্ষা এখনো পুরোপুরি আসেনি, তাই আমরা কিছুটা চিন্তিত। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে প্রতিটি এলাকায় টিম কাজ করছে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।”
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ব্লকে মেডিক্যাল ইউনিট ও স্বাস্থ্য টিম প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতির নিয়মিত পর্যালোচনা ও রিপোর্ট সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।