Malda School: বাংলার এই স্কুলে কেউ ‘ব্যাকবেঞ্চার’ নয়, ক্লাসরুমের ছবি অবাক করবে, কাদিরপুরে তৈরি হয়েছে এক দৃষ্টান্ত – Bengali News | This school of Malda has no back benchers, all students seat in same position
কাদিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়Image Credit source: TV9 Bangla
মালদহ: ওল্ড মালদহের কাদিরপুরের ‘কাদিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়’। স্কুল থেকে কিছুটা দূরেই মুচিয়া বিওপি অর্থাৎ বাংলাদেশ আউটপোস্ট। স্কুলের খুব কাছেই বয়ে যাচ্ছে মহানন্দা নদী। নদীর ওপারেই বাংলাদেশ। প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুলে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। স্কুল জুড়ে কয়েক’শ ছাত্র-ছাত্রী রোজ উপস্থিত থাকে। মজা একটাই। তারা কেউ পিছনের বেঞ্চে বসে না।
এই স্কুলের কোনও ছাত্র-ছাত্রীই ‘ব্যাকবেঞ্চার নয়। ক্লাসের প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীদের সামনেই রয়েছে ব্ল্যাকবোর্ড, চক, ডাস্টার। শিক্ষকরা প্রত্যেককে ধরে ধরে শেখাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, স্কুল ঘরের দেওয়ালগুলোতে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় আঁকাও রয়েছে।
বছর ছয়-সাতেক আগে থেকেই এরকম স্কুল তৈরির ভাবনা শুরু হয় কর্তৃপক্ষের। ছাত্র-ছাত্রী হত না স্কুলে। নজর ছিল না শিক্ষা দফতরেরও। শিক্ষকরা নিজেরাই ৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রাথমিক ফান্ড গড়েন। পরে একে একে কাজ এগোয়। এলাকায় চাঁদাও তোলা হয়েছিল। আজ এই স্কুল একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সদিচ্ছা থাকলে যে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর অভাব হয় না, পড়াশোনাও ভাল হয়, সেটাই যেন প্রমাণ করছে এই স্কুল।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সরকারি অনুদানে ভরসা করেনি এই স্কুল। যেখানে ছাত্র ছাত্রীর অভাবে ধুঁকছে রাজ্যের একাধিক প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক স্কুল, কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুল, সেখানে প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুল নজির তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ‘স্থানার্থী শ্রীকুত্তন’ নামে একটি মালায়ালম ছবি মুক্তি পায়। সেখানে দেখানো হয়, কীভাবে পিছনে বেঞ্চে বসার তকমা বা ‘ব্যাকবেঞ্চার’ শব্দটা একজন মানুষকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। সেই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর কেরলের একের পর এক স্কুল বসার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। মুছে দেওয়া হচ্ছে সামনের বেঞ্চ আর পিছনের বেঞ্চের ধারণা। তবে বাংলার এই স্কুল তার অনেক আগেই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।