ঘুমটা ভেঙেছিল চোখে-মুখে রক্তের ছিটেয়, চোখ খুলতেই বাবা-মাকে ‘ওই অবস্থায়’ দেখে পাথর হয়ে গেল শৈলেন্দ্র! – Bengali News | Blood Splashed on Face, 12 Year Son witness Mother Killing his Father for her Illicit Relation
পটনা: বৃষ্টির দিন। অকাতরে ঘুমাচ্ছিল ১২ বছরের ছেলে। হঠাৎ ঘুম ভাঙল মুখে কিছু একটা ছিটে আসায়। প্রথমে ভেবেছিল, হয়তো জলের ছিটে দিয়েছে কেউ, কিন্তু চোখ খুলতেই যে দৃশ্য দেখল, তাতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল নিমেষে। তাকিয়ে দেখল, বাবা মেঝেতে পড়ে রয়েছে, মা হাঁসুলি দিয়ে একের পর এক কোপ বসাচ্ছে বাবার ঘাড়ে।
বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা উষা দেবী খুন করেন তাঁর স্বামী বালু দাস (৪৫)-কে। তাঁদের ছেলে শৈলেন্দ্র দেখে সবটা। যখন সে চিৎকার করতে যায়, মা ইশারা করে দেখায় যে সে যদি চিৎকার করে, তবে বাবার মতোই পরিণতি হবে। ভয়ে চুপ থাকে ওই নাবালক। পরেরদিন সকাল অবধি পাথরের মতো ঘরেই বসে থাকে। পরে সাহস সঞ্চয় করে পিসির বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে মায়ের কীর্তি জানায়। তারপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। উষা দেবীও অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বালু দাস শ্রমিকের কাজ করতেন। কর্মসূত্রে তিনি পঞ্জাবে থাকতেন। উষা দেবী ও তিন সন্তান বিহারে থাকতেন। সম্প্রতিই গ্রামে ফিরে বালু দাস জানতে পারেন যে স্ত্রী তাঁর জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বচসা হয়।
পরে জানতে পারেন, স্বামীর অবর্তমানে গ্রামের আরেক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন উষা দেবী। প্রেমিকের সঙ্গে তিনি পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁর কথাতেই জমি বিক্রি করে দেন। হঠাৎ পঞ্জাব থেকে স্বামী ফেরত আসায় তাদের প্ল্যান ভেস্তে যায়। রাগের বশেই তিনি স্বামীকে খুন করেন।
