বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় বড় পদক্ষেপ, উত্তরবঙ্গে প্রথম সরকারি ক্লিনিক চালু হচ্ছে
উত্তরবঙ্গের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে রাজ্য সরকার। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে খুব শীঘ্রই চালু হচ্ছে উত্তবঙ্গের প্রথম সরকারি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাকেন্দ্র। স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে হাসপাতালের মাতৃত্ব বিভাগেই তৈরি হয়েছে এই বিশেষ ক্লিনিক। এই পরিষেবার ফলে উপকৃত হবেন সেই সব দম্পতিরা, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সন্তান না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন এবং ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসার খরচ বহনে অক্ষম।
আরও পড়ুন: বিয়ের আগেই গর্ভে সন্তান আসার কথা মেনে নিলেন নেহা! ‘আমার গর্ভবতী হওয়ার খবর…’
সরকারিভাবে উত্তরবঙ্গে এতদিন বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার তেমন সুযোগ না থাকায় বহু মানুষকে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হত। সেখানে চিকিৎসার খরচ হয়ে যায় কয়েক লক্ষ টাকা। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার চন্দন ঘোষ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভোগা দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে। তাঁর কথায়, ‘রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা বেড়েই চলেছে। আমরা একটি বিস্তারিত সমীক্ষাও চালাচ্ছি, যাতে এই প্রবণতার ধরন ও কারণ বুঝে নেওয়া যায়।’
নতুন এই ক্লিনিকে মিলবে নিয়মিত পরামর্শ, রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা এবং প্রয়োজনমতো ওষুধ ও ছোটখাটো চিকিৎসা। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আইভিএফের মতো ব্যয়বহুল পদ্ধতির প্রয়োজন হয় এমন কেসের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় ৮০ শতাংশ দম্পতির ক্ষেত্রেই যথাযথ ওষুধ, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং কিছু পরামর্শেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, এই পরিষেবা বিশেষভাবে সহায়তা করবে সেই সব পরিবারকে, যাঁরা আর্থিক কারণে এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। সরকারি ব্যবস্থায় এমন পরিকাঠামো গড়ে ওঠা একটা বড় সাফল্য। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তুলসী প্রামাণিক জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে ভবিষ্যতে আইভিএফ পরিষেবা চালুর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি এ-ও মনে করিয়ে দেন, সব ক্ষেত্রেই আইভিএফ দরকার হয় না। অনেক সময়েই জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ওষুধেই গর্ভধারণ সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, এই নতুন ক্লিনিক শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষকে সচেতন করতেও বড় ভূমিকা নেবে। বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচ দূর করে বৈজ্ঞানিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের কাছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করছেন, এটা খুব বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও মানবিক করে তুলবে।