ফোনে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস মমতার, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরলেন সিদ্দিকুল্লা
নিজের বিধানসভা এলাকায় দলীয় কর্মীদের একাংশের হামলার মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি। সেই ঘটনায় অপমানিত হয়ে পদত্যাগ করার কথাও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। তবে শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে ভরসা ফিরে পেয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন।
আরও পড়ুন: সিদ্দিকুল্লাকে ঘিরে TMC কর্মীদেরই বিক্ষোভ, ঝাঁটা, লাঠি দিয়ে গাড়িতে হামলা
জানা গিয়েছে, ঘটনার পরদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ফোন করেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরিকে। প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই ফোনালাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বস্ত করেন, হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির পরই আপাতত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সিদ্দিকুল্লা।মন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, ঘটনার সমস্ত কিছু তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তিনি সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, যেখানেই এমন কিছু ঘটুক, কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, সাতজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কারা কারা হামলার সঙ্গে জড়িত, সেই নাম তিনি পুলিশকে দিয়েছেন। প্রশাসনের কর্তারা বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
ঘটনা ঘটে গত ৩ জুলাই, মন্তেশ্বরের মালডাঙায়। একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা উপলক্ষে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মন্তেশ্বরে গিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেখানে তাঁর কনভয় এলাকায় ঢুকতেই উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় একদল মানুষ রাস্তা আটকে কালো পতাকা দেখান ও গো ব্যাক স্লোগান দেন। সেই সঙ্গে ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ইট, লাঠি, রড দিয়ে হামলা চলে মন্ত্রীর গাড়িতে। ঘটনায় গাড়ির কাঁচ ভাঙে, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিদ্দিকুল্লা অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেও হাতে সামান্য চোট পান। আরও দাবি, হামলাকারীরা তৃণমূলেরই কর্মী। এই আক্রমণের নেপথ্যে প্রকাশ্যে আসে দলীয় অন্তর্কলহ। ঘটনার পরই তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। এরপর সংবাদমাধ্যমে ক্ষুব্ধ সুরে মন্ত্রী বলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীদের যদি দল শাস্তি না দেয়, তাহলে তিনি আর দলে থাকবেন না।
এখানেই থেমে থাকেননি মন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন, ১০ জুলাই কলকাতার রাস্তায় নামবেন প্রতিবাদ জানাতে। এমনকি সিপিএম আমলের আন্দোলনের স্মৃতিও টেনে আনেন হুঁশিয়ারির সুরে। এই হামলার পিছনে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমদ হোসেন শেখের সরাসরি অভিযোগ করেন সিদ্দিকুল্লা। তিনি দাবি করেন, আহমদের লোকজনই তাঁর কনভয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে এখন কিছুটা আশ্বস্ত মন্ত্রী।