USA News: হাত দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়া যাবে না? নাক সিঁটকোচ্ছে আমেরিকা – Bengali News | Cant we eat biryani with our hands america is sniffing
কীভাবে খাবার খেলে মার্কিন হওয়া যায়? সঠিক উত্তরটা কী আপনার জানা আছে? আমেরিকার নাগরিক হওয়ার দরকার নেই। উত্তর জানা থাকলে লিখে ই-মেল করুন। সঙ্গে দিতে হবে রেস্তোঁরা বা ঘরে খাবার খাওয়ার ছবি। একা বা পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে। how-to-eat-my-food@gmail.com-এ ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আপনার উত্তর পাঠাতে পারেন। প্রথম ৩টে সেরা উত্তরের জন্য রয়েছে মোটা অঙ্কের পুরস্কার। নিউ ইয়র্কে মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানির সমর্থনে প্রচারে নেমেছে একটি সংগঠন। তারাই দেবেন এই পুরস্কার দেবে। কেন? সেই গল্পটা বেশ মজার।

ফয়েল প্যাকড বিরিয়ানিতে ডুবে রয়েছেন এক সুদর্শন যুবক। ওই যুবক-ই জোহরান মামদানি। নিউ ইয়র্কের মেয়র পদপ্রার্থী। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসাবে ট্রাম্পের প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়বেন। সোমবার থেকে মামদানির বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল। আর সেই ভিডিও তুলে ধরেই রিপাবলিকান সমর্থকদের একটা অংশের দাবি, হাত দিয়ে খাওয়া অসভ্যতা। আমেরিকানরা এভাবে খাওয়া-দাওয়া করেনা। আমেরিকার রীতিনীতি আয়ত্ত করতে না পারলে তৃতীয় বিশ্বের, নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। অনেকে আবার বলেছেন, হাত দিয়ে খাওয়া! গা গুলিয়ে ওঠার মতো। রিপাবলিকান সেনেটর ব্র্যান্ডন গিল এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘মামদানি, আমেরিকা আপনার মতো মানুষের দেশ হতে পারে না। আমরা এভাবে হাত দিয়ে খাওয়াদাওয়া করি না।’ ভাবখানা এমন, যেন মার্কিনীরা যেন কাঁটা-চামচ ছাড়া খাওয়াদাওয়াই করেন না। তা হলে পিত্জা, হটডগ, বার্গার বা ব্রেড গুলো কীভাবে পেটের ভিতরে যায়? এগুলো নিশ্চয় চামচ দিয়ে খান-না?
আসলে উদ্দেশ্য একটাই। মামদানির জনপ্রিয়তার আঁচ পেয়ে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে হেনস্থা করা। তার ভারতীয় রুটকে অপমান করা। মামদানি দু-দিন আগে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারি লিগে জিতেছেন। তাঁর জন্ম উগান্ডায়। বাবা অধ্যাপক। মা বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার। ৭ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে চলে আসা। সেই থেকে গত আড়াই দশক ধরে নিউ ইয়র্কেই তার বেড়ে ওঠা, কেরিয়ার গঠন। এই প্রথম মেয়র পদে লড়ছেন মামদানি। আর সেটা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে চলছে খটাখটি।
মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি কী করবেন? মামদানি দাবি করেছেন, ‘দুটি কাজ অবশ্য করব। এক, অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড়ের নামে হেনস্থা বন্ধ করব। দুই, বড়লোকদের সম্পত্তির উপর কর বসিয়ে গরিবদের কর কমাব।’ মামদানি দাবি করেছেন, তিনি জিতলে নিউ ইয়র্ক থেকে একজনকেও অনুপ্রবেশকারী বলে গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ। যা শুনে বেদম চটে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তা হলে ওই মামদানি লোকটাকেই গ্রেফতার করা হবে। লোকটা মহা বদ। আমার মনে হয়, ও বৈধ নাগরিক নয়। ওর নথিপত্র পরীক্ষা করতে বলছি। তেমন হলে ওকে আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ মামদানি অবশ্য ট্রাম্পের হুমকির কাছে ঝুঁকছেন না। এদিন বিকেলেও মামদানির স্পষ্ট বার্তা। অপমান করে দমানো যাবে না। এভাবে তাকে থামানোও যাবে না।