Benin Bronzes: ঔপনিবেশিক লুটের শেষ অধ্যায়? আফ্রিকার চাপে 'ঘর ওয়াপসি' হবে লুটের মাল - Bengali News | The final chapter of colonial plunder the looted goods will return home under pressure from africa - 24 Ghanta Bangla News
Home

Benin Bronzes: ঔপনিবেশিক লুটের শেষ অধ্যায়? আফ্রিকার চাপে ‘ঘর ওয়াপসি’ হবে লুটের মাল – Bengali News | The final chapter of colonial plunder the looted goods will return home under pressure from africa

Spread the love

ব্রিটিশ মিউজিয়াম। যাকে বলা হয় দুনিয়ার সেরা মিউজিয়াম। বছরখানেক আগে জয়পুর লিট ফেস্টে শশী থারুর ব্রিটিশ মিউজিয়মকে বলেছিলেন চোরবাজার। যুক্তি সহজ। দুনিয়ার যেখানে যেখানে ব্রিটিশ কলোনি ছিল, সেখান থেকে অমূল্য সব জিনিসপত্র লুটে নিয়ে গিয়ে ব্রিটিশরা তাদের মিউজিয়াম সাজিয়েছে। আজ উত্তর ঔপনিবেশিক যুগে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ, তাদের সাবেক রুলারদের কাছ থেকে ‘লুটের মাল’ ফেরত চাইছে।

নাইজিরিয়ার বেনিন শহরে আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে তৈরি করা ভাস্কর্য হল বেনিন ব্রোঞ্জ। সব যে ব্রোঞ্জের তা নয়। হাতির দাঁত, কাঠখোদাইও আছে। তবে, অধিকাংশ স্কাল্পচার ব্রোঞ্জের তৈরি বলে এগুলোকে বেনিন ব্রোঞ্জ নামেই ডাকা হয়। নাইজিরিয়ার প্রাচীন আদিবাসীদের ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতির সঙ্গে এইসব মূর্তিগুলো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছর আগে ডাচরা এসব লুটে নিয়ে যায়। এতদিন জিনিসগুলো শোভা পেতো নেদারল্যান্ডসের নানা মিউজিয়ামে। অবশেষে নাইজিরিয়া ও আফ্রিকান ইউনিয়নের চাপের মুখে লুটের মাল, ১২০টা মূর্তি ফেরত দিয়েছে ডাচ সরকার। ইতিহাস ঘরে ফেরায় খুশি নাইজিরিয়ার মানুষরা। তবে, শুধু ডাচরাই নয়। নাইজিরিয়া থেকে বেনিন ব্রোঞ্জ লুটে নিয়ে গিয়েছিল জার্মান ও ব্রিটিশরাও। লন্ডনের ওই চোরবাজারেই সাজানো আছে প্রায় ৯০০ বেনিন ব্রোঞ্জ। নাইজিরিয়া সরকার বলছে, ‘একে একে এসবই আদায় করে ছাড়ব আমরা।

আসলে, ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর হুহু করে জিনিস তৈরি হচ্ছে অথচ, কেনার লোক নেই। তাই ঠিক হল, মাল বেচতে গন্তব্য আফ্রিকা। ১৮৮০ সাল থেকে আফ্রিকার দখল নিয়ে ইউরোপিয়ানদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেই গোটা মহাদেশটা ইউরোপের দখলে চলে যায়। তবে, বেশিরভাগটাই দখলে ছিল ব্রিটেন আর ফ্রান্সের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় সব দেশই স্বাধীন হয়ে যায়। যদিও, আফ্রিকায় ডি-কলোনাইজেশন পর্ব শেষ হতে লেগে যায় আরও প্রায় তিন দশক। শেষ ১৯৭৭ সালে ফ্রান্সের হাত থেকে মুক্তি পায় জিবুতি। যদিও, তারপরও আফ্রিকার নানা দেশে সেনা রেখে দিয়ে পরোক্ষে কর্তৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে ইউরোপ।

আজ অবশেষে ব্রিটিশের ডার্ক কন্টিনেন্ট থেকে এক এক করে মুছে যাচ্ছে ঔপনিবেশিকতাবাদের শেষ চিহ্নটুকুও। মরিশাসকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে দিয়ে আফ্রিকা থেকে পাকাপাকিভাবে পাততাড়ি গুটিয়েছে ব্রিটেন। এমন একটা দেশ, ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই না করলে যাদের নামও শোনা যায় না। সেই ছোট্ট দেশ আইভরি কোস্ট, শক্তিশালী ফ্রান্সকে বলে দিয়েছে, ছেড়ে যাও আমার দেশ। আইভরি কোস্ট থেকে সেনা সরানো শুরু করে দিয়েছে ফ্রান্স। এবছরের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর একজন ফরাসি সেনাও আইভরি কোস্টে থাকবে না। একইসঙ্গে কমনওয়েলথ দেশগুলো লুটের মাল ফেরত চেয়ে ব্রিটেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। যেখানে আবার ভারতের দাবি সবচেয়ে বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *