Explained: রহস্য, ভয়, ভালবাসা… কী এমন আছে Labubu পুতুলে? – Bengali News | Explained: Labubu Doll Taking Over Internet, From Celebrities to Common People, Why Everyone Going Crazy over this Weird Doll
কীভাবে এল লাবুবু ট্রেন্ড?Image Credit source: TV9 বাংলা
সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই ফিড জুড়ে একটাই পোস্ট। সবার মুখে ঘুরছে একটাই নাম- লাবুবু (Labubu)। অদ্ভুতুড়ে এক ছোট্ট পুতুল, যা দেখতে বেশ কিউট, আবার কিছুটা ভয়ও লাগে তার বিকশিত দন্তের জন্য। ক্রিকেটার রোহিত শর্মা থেকে ব্ল্য়াকপিঙ্কের লিসা, সবাই এখন মজে লাবুবু-র প্রেমে। ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করতেও দুবার ভাবছে না কেউ। কী এমন আছে এই পুতুলে? ছোট থেকে বড়-সবাই কেন লাবুবু কিনছেন?
ট্রেন্ডে গা ভাসানোই এখন ট্রেন্ড। একটা কিছু জনপ্রিয় হলে, সবার সেটাই চাই। তবে লাবুবুর জ্বর যেন ছোঁয়াচে রোগ। হু হু করে তা বেড়েই চলেছে। কী এই পুতুল, তা না জেনেই অনেকে বায়না ধরছেন লাবুবু কেনার জন্য। কী এই লাবুবু?
বড় মাথা, ছুঁচালো দাঁত, বড় বড় চোখ, লোম ঢাকা পোশাক, লাবুবু (Labubu)-কে দেখতে এমনই। অনেকটা খরগোশের মতো দেখতে। কারোর এটা দেখে ভয় লাগছে, কারোর আবার খুব মনে ধরেছে। বর্তমানে বিশ্বুজুড়ে লাবুবু ট্রেন্ডিং। শপিং মলগুলিতে লম্বা লাইন পড়ছে লাবুবু কেনার। লোকজন সারা রাত মলের বাইরে অপেক্ষা করতেও দু’বার ভাবছেন না। অনলাইনেও হু হু করে বিকোচ্ছে লাবুবু। জনপ্রিয়তার এতটাই বেশি যে বাজার ছেয়ে গিয়েছে ভুয়ো লাবুবু-তেও।

লাবুবু এল কোথা থেকে?
হংকংয়ের শিল্পী কাসিং লুং এক দশক আগে, ২০১৩ সালে তৈরি করেছিলেন লাবুবু ডল। ‘দ্য মনস্টার’ লাইনের অংশ লাবুবু। বেজিংয়ের খেলনা কোম্পানি পপ মার্ট বিক্রি শুরু করেছিল লাবুবু ডলের। তবে লাবুবু একা নয়, এর একাধিক চরিত্র রয়েছে, যারা লাবুবুর পরিবার হিসাবেই পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে জিমোমো, মোকোকো, পাটো, স্পুকি, টাইকোকো ও পিপ্পো।
কীভাবে লাবুুবু চরিত্র তৈরি হল?
নর্ডিক পুরাণ থেকে অনুপ্রাণিত লাবুবু। সাধারণত লাবুবু বলতে বোঝায় এক ধরনের ছোট রাক্ষস, যার ছুঁচালো কান ও দাঁত রয়েছে। লাবুবু দয়ালু রাক্ষস হিসাবেই পরিচিত, যাকে দেখতে ভয়ঙ্কর হলেও মনটা বড্ড নরম। বইতে লেখা লাবুবু সকলকে সাহায্য করে, তবে অধিকাংশ সময়ই উপকার করতে গিয়ে অপকার করে বসে ভুলবশত!
কীভাবে জনপ্রিয় হল লাবুবু?
প্রায় ১০ বছর আগেই চিনা সংস্থা পপ মার্ট লাবুবু পুতুল বিক্রি শুরু করেছিল। তবে গত বছর থেকে তা বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। এর শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য লিসার হাত ধরে। লিসার ব্যাগে দেখা গিয়েছিল লাবুবু কি চেইন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও লাবুবু প্রেম নিয়ে কথা বলেছেন লিসা। স্বাভাবিকভাবেই ব্ল্যাকপিঙ্কের ফলোয়ার্সরা লাবুবু নিয়ে মাতামাতি শুরু করে।
লাবুবু নিয়ে লিসা।
লিসা জানিয়েছিলেন, লাবুবু কেনা ভীষণ মজার, কারণ এটি একটি মিস্ট্রি বক্সে আসে। অর্থাৎ প্যাকেট না খোলার আগে পর্যন্ত জানতে পারবেন না লাবুবুর কোন চরিত্র পাবেন আপনি। পছন্দের লাবুবু পাওয়ার জন্য একের পর এক লাবুবু মিস্ট্রি বক্স কেনেন সবাই।
আন্তর্জাতিক স্তরে লাবুবু-কে আরও জনপ্রিয়তা এনে দেয় পপস্টার রিহানা, ডুয়া লিপা। তাদেরও লাবুবু পুতুল নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। বিভিন্ন ছবি পোস্ট করেন লাবুবু নিয়ে। টিকটক, ইন্সটাগ্রামেও ট্রেন্ড করতে থাকে লাবুবু। ব্যস, আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে লাবুবুর জনপ্রিয়তা। বর্তমানে পপ মার্টের সবথেকে বিক্রিত পণ্য হল লাবুবু।
রিহানার লাবুবু প্রীতি।
পপ মার্টের আয় বাড়ল চড়চড়িয়ে-
ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে পপ মার্টও। যখনই লাবুবুর চাহিদা বেড়েছে, তখনই লাবুবু লিমিটেড এডিশন হিসাবে বিক্রি করতে থাকে। লিমিটেড এডিশন মানেই তার দাম আরও বেশি। এভাবেই ২০২৪ সালে পপ মার্টের রাজস্ব বা আয় দ্বিগুণ হয়ে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছয়।
লাবুুবুর জনপ্রিয়তা বুঝতে গেলে পপ মার্টের সিইও ওয়াং নিংয়ের আয় দেখলেই হবে। ওয়াংয়ের আয় একদিনেই ১.৬ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

চিনের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় লাবুবু। এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে লাবুবু। ব্যাগের কি চেইন হিসাবে অনেকে ব্যবহার করছেন লাবুবু। ভারতে লাবুবু-র কি চেইনের দাম ১০ হাজার টাকা। একটু বড় আকারের লাবুবু কিনতে খরচ পড়বে ১৯ হাজার থেকে ৩৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার কেউ যদি লিমিটেড এডিশন লাবুবুু কিনতে যান, তাহলে তার খরচ লাখ পেরিয়ে যাবে।
