‘টাচ করলেই ৩৫ টুকরো করে দেব’, ফুলশয্যার রাতেই নববধূর যে রূপ দেখলেন স্বামী, এখনও কাটছে না আতঙ্ক – Bengali News | UP Woman Threaten Husband to Cut him in 35 Pieces if He Touches her, Husband Still Horrified
যুগলের বিয়ের ছবি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত।Image Credit source: X
লখনউ: সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি, তাই বিয়ের পরই স্ত্রীর হাতে খুন স্বামী। এই ঘটনা এখন আকছার হচ্ছে। সোনম রঘুবংশী থেকে মুসকান, উদাহরণ একাধিক। এবার ফুলশয্যার রাতেই স্বামীকে খুন করার হুমকি দিলেন নববধূ। স্বামীকে বললেন, “আমায় স্পর্শ করলেই তোমার ৩৫ টুকরো পাওয়া যাবে। আমি শুধু আমানের।”
ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের। সিতারা নামক যুবতীর সঙ্গে গত ২৯ এপ্রিল বিয়ে হয় ক্যাপ্টেন নিশাদের। বিয়ের দিন সব ঠিকই ছিল। পরেরদিন নববধূকে নিয়ে নিজের বাড়ি আসেন নিশাদ। ২ মে তাদের বউভাত বা রিসেপশনের অনুষ্ঠান ছিল। অতিথিরা যখন আনন্দ-উদযাপনে মেতে, তখন নবদম্পতির ঘরের ভিতরে সম্পূর্ণ অন্য দৃশ্য দেখা গেল।
ফুলশয্যার রাতে ক্যাপ্টেন নিশাদ ঘরে ঢুকতেই দেখেন, স্ত্রী ঘোমটা দিয়ে বিছানায় বসে রয়েছে। হাতে ধরা ছুরি। নিশাদ ওই ঘটনার বর্ণনা করে বলেন, “আমি যখন ঘরে ঢুকলাম, ও (সিতারা) চুপ করে বসেছিল। ওঁ সোজা আমায় বলল, একদম স্পর্শ করবে না আমায়। আমি আমানের সম্পত্তি। যদি চেষ্টা করো, তাহলে তোমায় ৩৫ টুকরো করে দেব। গোটা ঘটনায় আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। সারা রাত সোফায় বসেছিলাম, ও ছুরি হাতে বিছানায় বসেছিল। আমি ভয়ে ঘুমাতেও পারিনি।”
নিশাদ জানান, এইভাবেই তিন রাত চলে। মাঝরাতের পরে সিতারা ঘুমাত, কিন্তু নিশাদ জেগে থাকতেন শুধু এই আতঙ্কে যে ঘুমিয়ে পড়লে সিতারা এসে খুন করবে। ভয় ছিল, খবরের কাগজে পরবর্তী হেডলাইন হয়ে যাবেন তিনি।
এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই, গত ৩ মে নিশাদ তাঁর মাকে জানান সবটা। সিতারাকে যখন ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন সকলকে চমকে দিয়ে সে জানায়, পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করতে হয়েছে। সে আমানকে ভালবাসে। আমানের সঙ্গেই সে থাকতে চায়। ফুলশয্যাও তাঁর সঙ্গেই হবে।
পরে সিতারার বাড়িতে গোটা বিষয়টি জানানো হয়, গত ২৫ মে দুই পরিবার মুখোমুখি হয়। তখন কাগজে লিখিয়ে নেওয়া হয় যে সিতারা আমানকে ভুলে যাবে এবং নিশাদের সঙ্গেই থাকবে। কিন্তু সিতারা বদলায়নি। বারবার সে আমানের কাছেই যেতে চাইত। গত ৩০ মে শেষমেশ সুযোগ পেয়ে পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়। পুলিশে এই নিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে নিশাদ চান না যে সিতারা আর ফিরে আসুক।
