শ্বশুর চাইতেন না বউমার কোমর ধরে…, চাপে পরে কী করতে বাধ্য হন অনামিকা? – Bengali News | When anamika saha not get permission to acting as lead actress said to act as mother
বাংলার বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁকে বরাবরই নায়কদের মায়ের চরিত্রেই দেখে এসেছেন দর্শক। সেই অর্থে তিনি সিনেপাড়ার পর্দার পর্দার মা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, তাপস পাল… প্রত্যেকেরই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনামিকা। এদিকে তাঁর বয়স কিন্তু তৎকালীন নায়কদের চেয়ে বেশি ছিল না। তবুও কেন মায়ের চরিত্রটাই বারংবার বেছে নিয়েছিলেন অনামিকা? ঘটেছিল বহু মজার ঘটনাও। এর কারণ অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন TV9 বাংলাকে।
বাংলার ব্লকবাস্টার বাণিজ্যিক ছবি ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-এ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনামিকা। নায়িকা ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সেই সময় অনামিকার বয়স ছিল ৪৪ (অনামিকার জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৬ নভেম্বর) এবং প্রসেনজিতের ছিল ৩৮। অনামিকার চেয়ে মাত্র ৬ বছরের ছোট প্রসেনজিৎ তাঁর জামাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ছবিতে।
প্রায় নিজেরই বয়সের কাছাকাছি অভিনেতাদের মায়ের চরিত্রে অভিনয়, কেমন রসায়ন ছিল অনামিকা এবং তাঁর অনস্ক্রিন পুত্রদের। এ ব্যাপারে অনামিকা জানিয়েছিলেন, অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্য়ায় তাঁর চেয়ে মাত্র ৫ বছরের ছোট ছিলেন। ৫ বছরের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা মা-ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অনেকটা বন্ধুর মতো হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকাও তাঁর ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যামেরার সামনে পর্দার ‘মা’ অনামিকাকে প্রণাম করলেও, ক্যামেরা বন্ধ হতেই মস্করা করতেন তাঁর সঙ্গে। দেখতে গেলে তাপস পালও কিন্তু ছিলেন অনামিকার চেয়ে বয়সে কেবল এক বছরের বড়।
মাত্র ২৯ বছর বয়স থেকেই বড় পর্দায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেছিলেন অনামিকা সাহা। কারণ শ্বশুরবাড়িতে আপত্তি ছিল তাঁর নায়িকা হওয়াতে। বিশেষ করে শ্বশুরমশাই চাইতেন না নায়করা বাড়ির বউয়ের কোমর ধরে নাচুক। কিন্তু অভিনয়ের লোভ সামলাতে পারলেন না। তাই ২৯ বছর বয়সেই প্রায় সমবয়সি নায়কদের মায়ের চরিত্র করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন অনামিকা। বাড়ির পরামর্শে, সিনেপাড়ার উপদেশ মেনে বেশি করে খেয়ে বাড়াতে থাকলেন নিজের শরীরের মেদ। যাতে বয়স তুলনায় তাঁকে বেশি ভারী লাগে। আর সেই থেকেই পর্দায় তাঁর মায়ের সফর শুরু হয়ে যায়।