ভেঙে দেওয়া হল অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজরিত বাড়ি, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভেঙে দেওয়া হল অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজরিত বাড়ি, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

Spread the love

শান্তিনিকেতনের বুক থেকে মুছে ফেলা হল এক ঐতিহ্যবাহী চিহ্ন। রবিবার সকালে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী ও লেখক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজরিত বাড়ি ‘আবাস’। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়ি না ভাঙার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুরসভা। তা সত্ত্বেও কীভাবে ভেঙে দেওয়া হল এই বাড়ি? তানিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।

আরও পড়ুন: মন্দারমণিতে ১৪০ টি ‘অবৈধ’ হোটেল, রিসর্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ, হাইকোর্টে মালিকরা

প্রায় এক বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন অবনীন্দ্রনাথের পুত্র অলোকেন্দ্রনাথ ঠাকুর। অবনীন্দ্রনাথ নিজেও বেশ কয়েকবার এসেছিলেন এই বাড়িতে। সেই সূত্রেই পাড়ার নাম হয়েছিল ‘অবনপল্লি’। বোলপুর পুরসভার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রবিবার সকালে ভেঙে ফেলা হয় শান্তিনিকেতনের আবাস।সম্প্রতি এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভাঙার উদ্যোগ শুরু হলে স্থানীয়দের আপত্তিতে হস্তক্ষেপ করে পুরসভা। প্রথমের দিকে ভাঙচুরের সময় বোলপুর পুরসভা হস্তক্ষেপ করে গেটে তালা লাগিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার সেই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। রবিবার সকাল ৯টা থেকে ফের ভাঙার কাজ শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ির মূল কাঠামো ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে শান্তিনিকেতনের বহু অধ্যাপক, আশ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, একজন খ্যাতনামা শিল্পীর স্মৃতিকে রক্ষা করতে না পারা লজ্জার বিষয়। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন যদি এইরকম এক ঐতিহাসিক স্থানের ক্ষেত্রেও প্রশাসন নীরব থাকে, তবে শান্তিনিকেতনের ভবিষ্যৎ কী? এই জমিতে ভবিষ্যতে বহুতল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী এই বাড়ির জায়গায় বহুতল নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। ফলে এবার কি ওই জায়গাটি ঠিকাদার ও জমি হাঙরদের হাতে পড়তে চলেছে? তাই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যদিও পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

উল্লেখ্য, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু চিত্রশিল্পী নন, সাহিত্যজগতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ‘রাজকাহিনী’, ‘ক্ষীরের পুতুল’, ‘নালক’, ‘ভারত শিল্প’, ও ‘শকুন্তলা’ সহ তাঁর রচনাগুলি আজও পাঠকের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও সমাদৃত। ফলে তাঁর স্মৃতি বিজরিত বাড়ি ভেঙে ফেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *