Explained: চিনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ভারতের অংশ হল সিকিম? - Bengali News | Explained: How Sikkim Become a part of India 50 years ago - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: চিনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ভারতের অংশ হল সিকিম? – Bengali News | Explained: How Sikkim Become a part of India 50 years ago

Spread the love

কীভাবে ভারতের অংশ হল সিকিম?Image Credit source: TV9 বাংলা

রাজার রাজত্ব থেকে গণতন্ত্র, একাধিক রাজ্য, দেশেরই এই পরিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে। তবে এদের সবার থেকে কিছুটা হলেও আলাদা পড়শি রাজ্য সিকিম। বাঙালি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা এই ছোট পাহাড়ি রাজ্য কিন্তু আগে ভারতের অংশ ছিল না। ৫০ বছর আগে তা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পিছনেও রয়েছে এক দীর্ঘ সংঘর্ষের ইতিহাস। ওৎ পেতে বসেছিল চিন, নেপাল। তাদের সকলকে এড়িয়ে কীভাবে ভারতের অংশ হয়ে উঠল সিকিম জানেন?

পাহাড়ের কোলে ছোট্ট সাজানো রাজ্য। এই রাজ্য়ে শুধু উন্নয়নই হয়নি, তার সঙ্গে রক্ষা করা হয়েছে প্রকৃতিকেও। বর্তমানে ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক বা অর্গানিক রাজ্য সিকিম। এই সিকিমে একসময়ে রাজার শাসন ছিল। ফুন্টসগ নামগ্যাল ছিলেন সিকিমের প্রথম রাজা। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নামগ্যালদেরই শাসন ছিল সিকিমে। সেই সময়ে সিকিমের মানচিত্রের অংশ ছিল দার্জিলিং থেকে চুম্বি ভ্যালি (যা বর্তমানে চিনের অংশ)।

পাহাড়ি রাজ্যপাটের মধ্যে সিকিমের আয়তন অনেকটাই বেশি হলেও, ১৭০০-র দশক থেকে সংঘাত শুরু হয় পড়শি নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের সঙ্গে। ধীরে ধীরে নিজের জমি খুইয়ে ফেলে সিকিম।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে যোগ-

যখন ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এসে হাজির হয়, তখন তারা বাণিজ্যের নামেই অখণ্ড ভারত ও তার আশেপাশের অংশ দখল করতে শুরু করে, তখন নেপালেও রাজার শাসন ছিল। তারাও নিজেদের সীমানা বাড়াচ্ছিল। এরফলে ব্রিটিশদের সঙ্গে নেপালের যুদ্ধ শুরু হয়, ১৮১৪ থেকে ১৮১৬ পর্যন্ত এই যুদ্ধ হয়। যেহেতু নেপালের বিরুদ্ধে ছিল সিকিম, তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষ নেয়। যুদ্ধে ব্রিটিশরা জেতে এবং ১৭৮০ সালে নেপালের কেড়ে নেওয়া ভূখণ্ডের কিছু অংশ সিকিমকে ফিরিয়ে দেয়।

ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকায় সিকিমে রাজার শাসন থাকলেও, তাদের বিশেষ কিছু করার ছিল না। নেপালিদের সিকিমে চলে আসা নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। এদিকে, এই সময়ই ভারতের সঙ্গে সিকিমের সম্পর্ক তিক্ত হয়। ব্রিটিশরা মোরাংয়ে কর বসানো নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। আর এই সুযোগেই ব্রিটিশরা দার্জিলিং অধিগ্রহণ করে। তবে ব্রিটিশদের এই সিদ্ধান্তে খুশি ছিল না সিকিমের দেওয়ানরা।বিদ্রোহ দেখাতে তারা দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করতে সাহায্য করা বন্ধ করে দেয়। শেষে ১৮৪১ সালে ব্রিটিশ সরকার সিকিমের রাজাকে ৩০০০ টাকা করে দিতে রাজি হয়। পরে তা বাড়িয়ে ১২০০০ টাকা করা হয়।

কীভাবে আলাদা হল দার্জিলিং?

১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক আর্চিবল্ড ক্যাম্পবেল ও উদ্ভিদবিদ জোসেফ হুকার সিকিমের পার্বত্য় অঞ্চলে ঘুরতে গিয়ে তিব্বতের চো লা-তে ভুল করে চলে যান। সিকিম সরকার তাদের আটক করে। শেষে অনেক কষ্টে তাদের ছাড়ানো হয়। এরপরই ব্রিটিশরা রেগে গিয়ে গোটা দার্জিলিং ও তেরাইকে আলাদা করে দেয়।

১৯৪৭ সালে ভারত ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এর তিন বছর পর, ১৯৫০ সালে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হরিশ্বর দয়ালের সঙ্গে সিকিমের রাজা তাশি নামগ্যালের চুক্তি হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সিকিমকে পুরোপুরি ভারতের অংশ করতে চাইলেও, সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিকল্প হিসাবে একটি চুক্তি হয়, যাতে শর্ত সাপেক্ষে ভারতের অংশ হয় সিকিম। একাধিক শর্ত ছিল তাদের। অন্যতম শর্তই ছিল, ভারতের অংশ হলেও, সিকিমে স্বায়ত্বশাসন থাকবে। ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। সিকিমের বাহ্যিক প্রতিরক্ষা, কূটনীতি ও জনসংযোগের দায়িত্ব ছিল ভারত সরকারের উপরে।

শোনা যায়, ১৯৫০-র দশকে সিকিমকে আমেরিকার সিআইএ-র বেস হিসাবে ব্যবহার করা হত।

বাড়ছিল ক্ষোভ-

রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দিনে দিনে বেড়েই চলেছিল। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে সিকিমে রাজাদের বিরুদ্ধে অসাম্য থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা না দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ ওঠে। ১৯৪৯ সালে সিকিমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তাশির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়। কিন্তু ২৯ দিনের মধ্যেই সেই সরকার ভেঙে যায়।

১৯৭৩ সালে বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপ্রাসাদ ঘিরে ফেলে। বাধ্য হয়েই নয়া দিল্লি সরকারের কাছে সাহায্য চায় রাজারা। সেনা পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর চোঙ্গাল, ভারত সরকার ও তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে চুক্তি হয়। ভারত সরকারকে সিকিমে উন্নয়ন, সংস্কারমূলক কাজের অধিকার দেওয়া হয়।

ধাপে ধাপে ভারতের অংশ হল সিকিম-

১৯৭৪ সালে সিকিমে নির্বাচন হয়। কাজি লেনদুপ দোরজির নেতৃত্বাধীন সিকিম স্টেট কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হয়। পরের পর নতুন সংবিধান তৈরি করা হয় সিকিমে, যেখানে রাজার ক্ষমতা শুধুমাত্র পদেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ভারত সরকার সিকিমকে একটি করে লোকসভা ও রাজ্যসভা আসন দেয়।  তবে সিকিমের রাজ পরিবারের এতে আপত্তি ছিল। আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই বিষয়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালে  গণভোট হয়, যেখানে ভারতের পুরোপুরি অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫৯ হাজার ৬৩৭টি ভোট সিকিমে রাজতন্ত্র শেষ করে ভারতের অংশ হওয়ার পক্ষে পড়ে, মাত্র ১৪৯৬টি ভোট সিকিমে রাজতন্ত্র থাকার পক্ষে পড়ে। সিকিমের নতুন সংসদে বিল পেশ করে ভারতের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে ভারতের অংশ সিকিম। এর ৬টি জেলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *