Explained: ভারতের 'কালাদানই' কালঘাম ছোটাবে বাংলাদেশকে? - Bengali News | Explained: What is Kaladan Project, How India will avoid Bangladesh to reach seven sisters - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: ভারতের ‘কালাদানই’ কালঘাম ছোটাবে বাংলাদেশকে? – Bengali News | Explained: What is Kaladan Project, How India will avoid Bangladesh to reach seven sisters

Spread the love

ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ ল্যান্ডলকড বা স্থলবেষ্টিত, আর ঢাকাই হল এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক। সম্প্রতি চিনে গিয়ে এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। আসলে ইউনূসের জানা নেই যে বাংলাদেশকে এড়িয়ে উত্তর-পূর্বে যাওয়ার পথ প্রায় তৈরিই হয়ে এসেছে ভারতের। ঢাকার উপর কোনও ভরসা না করেই ভারতের যে কোনও জায়গা থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে মেঘালয় বা মিজোরামে। ইউনূসের দাবির পর দ্রুততার সঙ্গে সেই পথের রূপরেখা তৈরি করছে ভারত সরকার। প্রজেক্টের নাম ‘কালাদান মাল্টি মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট। (KMMTTP)’

কী এই কালাদান প্রজেক্ট?

ভারতের মূল ভূখণ্ডের থেকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এই কালাদান প্রজেক্ট। কালাদান হল একটি নদীর নাম। মায়ানমারের এই নদী সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টের একটি বড় অংশ।

প্রজেক্টের মধ্যে থাকছে সমুদ্রপথ, নদীপথ ও স্থলপথ। তাই এর নামের সঙ্গে ‘মাল্টি মোডাল’ কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। এই পথে কলকাতা থেকে মায়ানমার হয়ে মিজোরাম পৌঁছে যাওয়া যাবে হয়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে।

এই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ হলে ভাইজাগ ও কলকাতা বন্দর থেকে সহজেই পণ্য পৌঁছে যাবে উত্তর-পূর্বে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর ভরসাও করতে হবে না। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দূরত্বও কমবে অনেকটাই।

কীভাবে বাংলাদেশকে এড়িয়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে সেভেন-সিস্টার্স?

বর্তমানে পণ্য পরিবহনের জন্য উত্তর-পূর্বে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা হল ‘চিকেনস নেক’। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিকের এই অংশ দিয়েই মূলত পণ্য পরিবহন করা হয়, মানচিত্রে যাকে দেখতে অনেকটা মুরগীর গলার মতো। এই পথকে বলা হয় শিলিগুড়ি করিডর। ভারতের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার এটিই একমাত্র পথ। এর বাইরে উত্তর-পূর্বে যেতে গেলে বাংলাদেশের স্থলপথ ব্যবহার করতে হয় ভারতকে।

কলকাতা থেকে ঢাকার রেলপথ ও স্থলপথ, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করতে হয়। তবে এই কালাদান প্রজেক্ট সম্পূর্ণ হলে কলকাতা বন্দর থেকে পণ্য পাঠানো যাবে সোজা মায়ানমারের সিতবে বন্দরে। সেখান থেকে নদীপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করে পৌঁছে যাওয়া যাবে উত্তর-পূর্বে।

ঠিক কেমন হবে সেই রুট?

প্রজেক্টের শুরুটা হবে কলকাতা বন্দর থেকে। কলকাতা থেকে মায়ানমারের সিতবে বন্দরের দূরত্ব ৫৩৯ কিমি। এটা পুরোটাই জলপথ। এই রুটটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়নি। তবে ভারত এই রুটটিকে আপগ্রেড করার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। সিতবে পোর্টকেও আপগ্রেড করা হয়েছে, যাতে অনেক বেশি পণ্য এই অংশের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।

পরের অংশটি হল কালাদান নদীর উপর দিয়ে ১৫৮ কিলোমিটার পথ। সিতবে থেকে সেই পথ পৌঁছবে পালেটওয়া পর্যন্ত। এই পথে নদীর ড্রেজিং করে গভীরতা বাড়িয়েছে ভারত। তৈরি হয়েছে জেটিও। ৩০০ টন পর্যন্ত পণ্য লেনদেনের ব্যবস্থা থাকবে পালেটওয়ায়। এই অংশের কাজও শেষ হয়ে গিয়েছে।

পালেটওয়া থেকে কালেটওয়া পর্যন্ত চার লেনের একটি রোড থাকবে। দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার। কালেটওয়া থেকে উত্তর-পূর্বের মূল ভূখণ্ডে থাকা জোরিনপুই পর্যন্ত হাইওয়ের ৫০ কিলোমিটারের কাজ এখনও বাকি। মায়ানমারের জোরিনপুই থেকে মিজোরামের আইজলের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। স্থলপথে জোরিনপুইয়ের সঙ্গে জুড়ে যাবে আইজল, সেখান থেকে রোড যাবে সিলচর, সেখান থেকে রোড গিয়ে মিশবে শিলং-এ। এটাই হল পুরো প্রজেক্ট।

এ ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে আইজল যেতে পার করতে হচ্ছে ৯৫০ কিলোমিটার পথ। শিলিগুড়ি করিডর দিয়ে এই দুই জায়গার দূরত্ব হত ১৮৮০ কিলোমিটার। অর্থাৎ দূরত্ব কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে কালাদান প্রজেক্টের মাধ্যমে। এই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ হলে সময় কম লাগবে, খরচও হবে কম।

কতদিন ধরে চলছে এই প্রজেক্ট?

২০০৮-এ ভারত ও মায়ানমার এই প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেয়। কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এর মধ্যে সিতবে পোর্টের ক্ষমতা বাড়ায় ভারত। এর আগে মাত্র ২০০০ টন জাহাজ রাখার ক্ষমতা ছিল এই বন্দরের, সেটা বাড়িয়ে ২০,০০০ টন করা হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতেও কাজের গতি ধীর হয়ে যায়।

২০২২ সালে এয়ারকন ইন্টারন্যাশনাল-কে কাজের দায়িত্ব দেয় ভারত। শর্ত ছিল, ৪০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। তবে যুদ্ধ, দাঙ্গা বা গৃহযুদ্ধ হলে কাজ বন্ধ হতে পারে। আর সেটাই আপাতত কাঁটা হয়ে রয়েছে এই প্রজেক্টে।

আরাকান-কাঁটায় বিদ্ধ কালাদান প্রজেক্ট?

প্রজেক্টের কাজ নিজস্ব ছন্দেই চলছিল। কিন্তু সমস্যাটা হল, মায়ানমারের যে অংশের উপর দিয়ে প্রজেক্টের কাজ হচ্ছে, সেখানে এখন মায়ানমারের পতাকাও দেখা যাচ্ছে না।

২০২১-এ মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। তারপর থেকেই মায়ানমারে চলছে গৃহযুদ্ধ। সেনার বিরুদ্ধে ছোট ছোট দল বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আর সেই বিদ্রোহীদের মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী হল আরাকান আর্মি। আর এই কালদান প্রজেক্ট যে পথ দিয়ে যাবে, তার বেশিরভাগ অংশই রয়েছে আরাকান আর্মির দখলে।

একদিকে সিতবে বন্দর রয়েছে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে। আর এই রাখাইনে অস্থিরতা অনেকটাই বেশি। তবে সিতবে বন্দর রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। পালেটওয়া থেকে জোরিনপুই পর্যন্ত যে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, সেই অংশ রয়েছে আরাকানদের হাতে।

এই পরিস্থিতিতে প্রজেক্টের কাজ যদি সুরক্ষিত করতে হয়, তাহলে আরাকান আর্মির সঙ্গে কথা বলতে হবে। আর মায়ানমারের সরকার এই আরাকান আর্মিকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, ২০১৯-এ প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারদের উপর আক্রমণ করেছিল।

সূত্রের খবর, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে ভারত সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কাজ এগোনোর জন্য তৎপর হয়েছে নয়া দিল্লি। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, ভারত কি তবে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষা করবে? নাকি তার আগেই আলোচনায় হবে সমাধান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *