কন্সটেবলের উর্দি পরে মত্ত অবস্থায় তোলা তুলতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ল সিভিক
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় যখন সিভিক ভলান্টিয়ারের কীর্তিতে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা রাজ্য তখন খাস কলকাতায় প্রকাশ্যে এল আর এক সিভিক ভলান্টিয়ারের অভূতপূর্ব কীর্তি। এবার কন্সটেবলের উর্দি চুরি করে তোলাবাজি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়লেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। ঘটনা কলকাতার প্রগতি ময়দান থানার। নীরজ সিং নামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। তাঁকে জেরা করছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা পুলিশের ১০০ ডায়ালে একটি ফোন আসে। কসবা থানা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কলকাতা পুলিশের উর্দিধারী এক কন্সটেবল মত্ত অবস্থায় অসংলগ্ন কথা বলছেন, একই সঙ্গে স্থানীয়দের কাছ থেকে তোলাবাজি করছেন তিনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন আধিকারিকরা। এর পর জানা যায়, ধৃত প্রগতি ময়দান থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। নাম নীরজ সিং। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ ব্যারাক থেকে এক কন্সটেবলের উর্দি চুরি করে সেই উর্দি পরে তোলাবাজি করছিল সে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তাঁকে গ্রেফতার করেন পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃতকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিয়েছে লালবাজার। তাঁতে জেরা করছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। কী ভাবে পুলিশ ব্যারাক থেকে কন্সটেবলের উর্দি চুরি গেল। আর কেনই বা তা কেউ জানতে পারল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ফের একবার রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে রাজ্যে একাধিক অপরাধে নাম জড়িয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। সম্প্রতি পাঁশকুড়ায় চিপসের প্যাকেট চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক নাবালককে বেধড়ক মারধর করে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। যার জেরে চরম পদক্ষেপ করে সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্র। ওই ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ারকে এখনও গ্রেফতার করতে না পারলেও তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে ৬ জন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কসবার ঘটনায় বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ বলেন, ‘সিভিক ভলান্টিয়ারের নামে তৃণমূলের ক্যাডারবাহিনীর হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। অযোগ্য অপদার্থ দুর্বৃত্তদের হাতে রাজদণ্ড তুলে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।’