মন্দিরে প্রসাদ বিতরণের সময় হাতির হানা, তাড়াতে গিয়ে জলপাইগুড়িতে মৃত্যু ২ যুবকের - 24 Ghanta Bangla News
Home

মন্দিরে প্রসাদ বিতরণের সময় হাতির হানা, তাড়াতে গিয়ে জলপাইগুড়িতে মৃত্যু ২ যুবকের

Spread the love

রাজ্যে ফের হাতির হানায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। হাতি তাড়াতে গিয়ে দু’জনের মৃত্যু হল। জলপাইগুড়ির তিস্তার দুধিয়ার চরে ঢুকে পড়েছিল ১০০ হাতির দল। সেই হাতির দল জঙ্গলে ফেরাতে গিয়েই দুজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের নাম তুষার দাস (১৭) ও নারায়ণ দাস (২০)। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

আরও পড়ুন: হাতির হানা রুখতে হাতিয়ার বাঁশ গাছ, জঙ্গলমহলে ৫০ হাজার চারা রোপণ বন বিভাগের

স্থানীয় এবং বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল সংলগ্ন দুধিয়ার চর, টাকিমারি ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই হাতি ঢুকে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে কমপক্ষে ১০০টি হাতি ছোট-ছোট দলে ভাগ হয়ে লোকালয়ে আসছিল। তার জেরে গত কয়েকদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন স্থানীয়রা। বনকর্মীরা হাতির পালকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতেই যোগ দিয়েছিলেন তুষার এবং নারায়ণ। হাতি তাড়িয়ে ফেরার পথে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। তাঁদের পায়ে করে পিষে দেয় হাতি। এর ফলে ঘটস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

জানা গিয়েছে, তুষার ও নারায়ণ মিলনপল্লি এলাকার বাসিন্দা। তুলসিপাড়া এলাকায় একটি কীর্তনের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানেই তাঁরা গিয়েছিলেন। জানা যায়, মন্দিরে যখন তাঁরা প্রসাদ বিতরণ করছিলেন, সেইসময় হাতির দল হানা দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। খবর সেখানে পৌঁছান বন বিভাগের কর্মীরা। তাঁরা হাতির দলকে জঙ্গলে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় তাঁদের ওপর হামলা চালায় হাতি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, লোকালয়ে টানা হাতির হানায় কার্যত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরে হাতির দল হানা দিচ্ছে। তারপরেও বন বিভাগের তরফে হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এর আগে গত ১৪ মে হাতির হানায় কেরল থেকে বাড়ি ফেরা এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকেই বনদফতরের কাছে বারবার হাতিগুলি তাড়ানোর জন্য আবেদন জানানো হচ্ছিল। আর বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুজনের মৃত্যু হল। পরে পুলিশ দুজনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *