Golden Temple: পাক সেনা হামলা হামলা করবে স্বর্ণ মন্দিরে! শুনেই এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং যা করলেন… – Bengali News | Iaf chiefs bold move nur khan airbase hit golden temple secured
পহলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন যখন অন্তত ৯টি পাক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত, তখন পাকিস্তানও যে চুপ করে বসে থাকবে না সেকথা বিলক্ষণ জানত ভারতীয় সেনা। পাল্টা হামলা হবে ধরেই নিয়েছিল ভারত। সেইমতো মোতায়েন ছিল যাবতীয় ডিফেন্স সিস্টেমও। আর কাপুরুষ পাকিস্তান যে ভারতের সেনার সঙ্গে বাহুবলে পাল্লা দিতে না পেরে ভারতের বুকে নিরীহ মানুষ ও তাঁদের ভাবাবেগকে আঘাত করবে, সেটাও আঁচ করে ফেলেছিলেন সেনা, গোয়েন্দা ও ইন্টেলিজেন্স কর্তারা।
সেইমতো ৭-১০ মে টানা চারদিন সীমান্তবর্তী রাজ্য পাঞ্জাবের অমৃতসরে ব্ল্যাক আউট চলে। এমনকী নিভিয়ে ফেলা হয় পবিত্র স্বর্ণমন্দিরের আলোও। ইতিহাসে এমন নজির আর নেই। কারণ, ভারতের সেনাকর্তারা আগাম টের পেয়েছিলেন, ভারতের কোনও সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানোর ক্ষমতা ইসলামাবাদের নেই। তাই, মন্দির-গুরুদ্বারাকে নিশানা করে দেশের অন্দরে আতঙ্ক তৈরি করতে চাইবে খোয়াজা আসিফের সেনা। সেইমতো শুরু হয় তৎপরতাও। ইন্টেলিজেন্স মারফত খবর পেয়ে হাই অ্যালার্টে রাখা হয় সেনাকে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয় স্বর্ণমন্দিরে। এর মাঝেই ঘটে যায় আর এক নজিরবিহীন ঘটনা। স্বর্ণমন্দিরের প্রধান গ্রন্থী ভারতীয় সেনাকে মন্দির চত্বরের ভিতরে ‘এয়ার ডিফেন্স গান’ বসানোর অনুমতি দেন। সেইমতো শিখদের ধর্মীয় আস্থার প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান জানিয়ে, স্বর্ণ মন্দির চত্বরে মোতায়েন হয় L-70 Air Defence Guns, প্রস্তুত থাকে AKASH মিসাইলও।
এই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য স্বর্ণমন্দির কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি কুনহা। বলেন, ‘আমরা যখন স্বর্ণ মন্দির কর্তৃপক্ষকে পাক হামলার আশঙ্কার কথা জানাই, তাঁরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেনার সঙ্গে যাবতীয়ভাবে সহযোগিতা করেন। আমরাদের অনুরোধ মেনে, এই প্রথমবার মন্দিরের সব আলো নিভিয়ে ফেলা হয়।’ পাকিস্তানের ড্রোনের গতিবিধি বুঝতে আলো নিভিয়ে ফেলতে বলা হয়। যাতে নিকষ অন্ধকারে ভারতের সেনা পাক ড্রোনের গতিবিধি স্পষ্ট আঁচ করতে পারে।
সেই রাতে সেনার আশঙ্কাই সত্যি হয়। মধ্যরাতে স্বর্ণমন্দির টার্গেট করে ঝাঁকে ঝাঁকে পাক ড্রোন উড়ে আসতে শুরু করে। কিন্তু ‘আকাশতীর’-এর সৌজন্যে সেই সব হামলাকে মাঝআকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের শিঁড়দাঁড়া আকাশতীরের সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে যোগাযোগ রাখছিল যথাক্রমে ভারতীয় বায়ুসেনার IACCS ও ও নৌসেনার TRIGUN। যার ফলে পাকিস্তানের হামলা প্রতি মুহূর্তের সার্বিক ছবিটা কমান্ড সেন্টারে বসে দেখতে পাচ্ছিলেন সেনাকর্তারা।

এর মধ্যেই আর এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। যে মুহূর্তে তিনি জানতে পারলেন, পাক সেনা স্বর্ণমন্দিরে হামলার ছক কষছে, তিনি বুঝে যান, এখানেই থেমে থাকবে না শাহবাজ শরিফের সেনা। ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এয়ার চিফ মার্শাল পরিকল্পনা কষে ফেললেন, পাকিস্তানের বায়ুসেনার কোমর ভেঙে দেবেন। গুঁড়িয়ে দেবেন রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস। গ্রহণ করলেন ‘আক্রমণই আত্মরক্ষার সেরা কৌশল‘ নীতি। সেদিন রাতে এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং নিজে বেছে নেন সেরা পাইলটদের। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছ থেকে সবুজ সংকেত মেলার পরেই পাকিস্তানের বুকে এমন প্রত্যাঘাত করেন যে খোদ পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির প্রায় দুঘণ্টা গোপন বাঙ্কারে ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন।
ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এই বায়ুসেনা ঘাঁটিতেই রয়েছে পাক বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টলেশন। এখানে পাক সেনার কলেজ চকলালা-সহ ট্রেনিং ক্যাম্পও রয়েছে। একবার এই ঘাঁটিকে নষ্ট করতে পারলে পাক সেনার অন্তরাত্মা যে কেঁপে উঠবে সেটা ভালমতোই বুঝতে পেরেছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। চকলালা আক্রমণ করলে পাক সেনাকে বোঝানো যাবে, যে পাকিস্তানের সুরক্ষিততম সেনাঘাঁটিও ভারতের হামলা থেকে সুরক্ষিত নয়।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। ৯ মে মধ্যরাতে ভারতীয় বায়ুসেনা নিখুঁত প্রত্যাঘাতে নূর খান এয়ারবেস তছনছ করে দেয়। মনে রাখতে হবে, পাকিস্তানের এই ঘাঁটিতেই লকহিড হারকিউলিস, রিফুয়েলার এমনকী ট্রেনিং এয়ারক্রাফট থাকত। পরে স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায় পাক বায়ুসেনার সাধের ঘাঁটির রানওয়ে জুড়ে কার্যত ধস নেমেছে ভারতের কড়া প্রত্যাঘাতে।