উত্তরবঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী, বেতন বকেয়া রেখে বন্ধ মধু চা–বাগান, বেকার ৭৫০ শ্রমিক - 24 Ghanta Bangla News
Home

উত্তরবঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী, বেতন বকেয়া রেখে বন্ধ মধু চা–বাগান, বেকার ৭৫০ শ্রমিক

Spread the love

আজ, সোমবার উত্তরবঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে এই শিল্প সম্মেলনে সকল শিল্পপতিদের কথা শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আজ বন্ধ হয়ে গেল আলিপুরদুয়ারের মধু চা–বাগান। আজ সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন চা–বাগান বন্ধ। মালিক কর্তৃপক্ষ বাগান বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় চাপে পড়ে গিয়েছেন শ্রমিকরা। কয়েক মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে শ্রমিকদের বলে অভিযোগ। তার মধ্যে এবার চা–বাগানই বন্ধ করা হল। কাজ হারিয়ে মধু চা–বাগানের মোট ৭৫০ জন শ্রমিকদের এখন হাহাকার অবস্থা।

এদিকে গত সাত বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে আলিপুরদুয়ারের কালচিনির মধু চা–বাগান খুলে যায়। কিন্তু তিন বছর কাটতে না কাটতেই আবার সোমবার বন্ধ হয়ে গেল এই চা–বাগান। আগে এই মধু চা–বাগানে ৯৬১ জন শ্রমিক ছিল। চা–বাগান খোলার পর শ্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫০ জন। এই চা–বাগান টিএসওপি’‌র মাধ্যমে অন্য মালিককে দিতে চা–বাগানের শ্রমিকরা মিছিল করে হাসিমারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ৬ মাস ধরে কাজ করলেও বেতন দিচ্ছেন না বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। এই বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনও করেন শ্রমিকরা। তবে চা–বাগানে কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। তাই উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটেনি। এই আবহে আজ শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন চা–বাগান বন্ধ।

আরও পড়ুন:‌ ‘‌আগামী ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা’‌, মমতাকে কথা হর্ষ নেওটিয়ার

অন্যদিকে এই মধু চা–বাগানে ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের’ নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়ায় আর্থিকভাবে বিপদে পড়ে গিয়েছেন শ্রমিকরা। এখন এই চা–বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছেন ম্যানেজমেন্ট। আর এখানের ম্যানেজার, সহকারি ম্যানেজার সকলেই চলে যান। তার ফলে আবার সঙ্কটে পড়ল মধু চা–বাগান। আর মধু চা–বাগানের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানান, গত ৬ মাস ধরে বেতন বন্ধ শ্রমিকদের। প্রভিডেন্ট ফান্ডেও টাকা জমা পড়ছে না। তাই চা–বাগানটিকে আবার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া অবিলম্বে এই চা–বাগান খোলা এবং বেতন মেটানোর দাবি তোলা হয়েছে। মধু চা–বাগান কর্তৃপক্ষের থেকে স্পষ্ট কোনও বার্তা আসেনি বলেই অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওই মধু চা–বাগানের ম্যানেজার এবং অন্যান্য অফিসাররাও এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে শ্রমিকদের দাবি। চা–বাগান বন্ধের কথা ছড়িয়ে পড়তেই শ্রমিকদের পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে। চা–বাগানের শ্রমিকদের সংসার এখন কেমন করে চলবে তা নিয়ে মাথায় হাত পড়েছে। শ্রমিক সংঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাতে দ্রুত খোলা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *