জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও কেন অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়? – Bengali News | Despite being at the peak of popularity, why did Sabitri Chatterjee quit acting
বহুদশক ধরে বাঙালি সিনেপ্রেমী মানুষের মনে রয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত নতুন ছবি নন্দিতা রায় -শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘আমার বস’। এখনও তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয়ে দর্শকদের করতালি শোনা যায় সিনেমা হলে। তবে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অনেক চড়াই উতরাই দেখেছেন। সম্প্রতি ‘আনবাক্স’ নামক একটি পডকাস্টে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এক অন্য কাহিনি শোনালেন। তাঁর কেরিয়ারের একদম শীর্ষে থাকার সময় ব্যক্তিগত কারনে অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কেন এমন করেছিলেন, কী এমন হয়েছিল, নিজেই জানালেন।
পদ্মশ্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ” আমার বাবা হঠাৎই চলে গেলেন, আমি খুব আঘাত পেয়েছিলাম। কাছের মানুষকে হারানোর প্রথম শোক পেয়েছিলাম। একদিকে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে মাকে ঘুমের অসুধ দিয়ে ঘুম পারিয়ে রাখছি, বাবা আমাদের এমন ভাবে আগলে রেখেছিলেন, যে তাঁর চলে যাওয়াটা মানতে পারিনি। হঠাৎই আর অভিনয় করতে ইচ্ছে করছিলনা। আমি বাড়িতেই থাকতাম, খাওয়া আর ঘুম। বাইরে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম , একের পর এক ছবি নাষীরে দিয়েছি। প্রায় দেড় বছর এই ভাবে কেটে যায়। আমি অসম্ভব মোটা হয়ে যাই। একদিন কয়েক জন আমাদের বাড়িতে এসে আমাকেই জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই”, আমি বললাম বলুন, আমি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা আমায় চিনতেই পারেননি, বললেন আপনি এত মোটা কেন হয়েছেন? চেনাই যাচ্ছেনা। এর পর আমি ভাবলাম, সত্যিই আমি খুব মোটা হয়ে গেছি, অভিনয় করছিনা। এই অভিনয় আমায় এতকিছু দিয়েছে, দর্শকদের ভালবাসা দিয়েছে। আমি কি করছি সব ছেড়ে দিয়ে? নিজেকেই প্রশ্ন করছি। তবে আমি ভাবলেই তো হবেনা। ততক্ষনে আমার কাছে প্রযোজকদের আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, কারন তারা জানে যে আমি আর কাজ করছিনা। এরপর আমি আবার মনযোগ দিলাম নিজের ওজন কমানোর দিকে। সকালে বাড়ির সামনে প্রাতভ্রমণ থেকে খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা। প্রায় একমাস আমি ভাত রুটি খাওয়া বন্ধ করেদি। এর পর আস্তে আস্তে আমার ওজন কমল। আগের চেহারায় ফিরলাম। তবে ছবি নিয়ে আর কেউ আসতনা। আর আমি নিজে প্রযোজকদের কাছে যাবো এমন মানুষ আমি নই। এই রকম সময়ে হঠাৎই ‘অগ্রদূত’ গোষ্ঠি আমার কাছে একটি ছোট চরিত্র নিয়ে এলেন , তাঁরা বললেন আমার সময় থাকলে এই চরিত্রটা করতে পারেন। আমি গল্প শুনেই হ্যাঁ করেছিলাম। ছবির নাম ‘উত্তরায়ণ’। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছিলেন উত্তমকুমার, সুপ্রীয়া দেবী, আমি অনিল চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। সেই ছবিতে আমার চরিত্রটা ছিল একদম অল্প, ১৯৬২ সালে এই ছবি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে সুপারহিট হল। দর্শকদের ভালবাসা পেলাম আবার। এর পর একের পর এক ছবি আসতে থাকল। এই ছবির মাধ্যমেই আমার সিনেমায় আবার কামব্যক হয়েছে বলা যেতেই পারে।”
১৯৬২ সালের ‘উত্তরায়ণ’ ছবিটি সুপার ডুপার হিট হয়। এই একই গল্প নিয়ে হিন্দিতে ছবি তৈরি হয়। ছবির নাম ‘হাম দোনো’, ছবিতে মুখ্য চরিত্রে ছিলেন দেব আনন্দ, নন্দা ও সাধনা। যদিও বাংলা উত্তরায়ণ আজও দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে। সমস্ত ছবি জুড়ে সুপ্রীয়া দেবী থাকলেও অল্প ক্ষণের জন্য পর্দায় এসে দর্শকদের মন জয় করে নেন অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। এরপর থেকে বিরামহীন কাজ করে চলেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।