হাতির হানা রুখতে হাতিয়ার বাঁশ গাছ, জঙ্গলমহলে ৫০ হাজার চারা রোপণ বন বিভাগের - 24 Ghanta Bangla News
Home

হাতির হানা রুখতে হাতিয়ার বাঁশ গাছ, জঙ্গলমহলে ৫০ হাজার চারা রোপণ বন বিভাগের

Spread the love

বাংলার বিভিন্ন জেলায় প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জঙ্গলমহল, বাঁকুড়া সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হাতির তাণ্ডব লেগেই রয়েছে। এর ফলে যেমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে তেমনিই বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট হচ্ছে, সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাতির হানা রুখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। তারপরেও হাতির হানা বন্ধ হচ্ছে না। এবার জঙ্গলমহলে হাতির হানা রুখতে বাঁশ গাছের উপরে ভরসা করতে চলেছে বন দফতর। প্রায় ৫০ হাজার বাঁশের চারা লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতভর হাতির তাণ্ডব, ভাঙল প্রাচীর, গেট

সাধারণত বাঁশ হাতির প্রিয় খাবার গুলির তালিকায় রয়েছে। তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর চন্দ্রা রেঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ৪,০০০ বাঁশ গাছ লাগানো হয়েছিল। তা সফল হওয়ার পর দক্ষিণবঙ্গে যে যে জায়গায় হাতির দাপট বেশি, সেখানে বাঁশ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য।

এ বিষয়ে মেদিনীপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) দীপক এম জানিয়েছেন, গত বছর বাঁশ রোপণ হাতির হানা রুখতে পাইলট প্রকল্প ছিল। তা খুবই কার্যকর ছিল। এতে দেখা গিয়েছিল চন্দ্রা বনাঞ্চলে আসা ২৫টি হাতির একটি পাল কমপক্ষে পাঁচদিন ধরে লোকালয়ে প্রবেশ করেনি। কারণ তাদের পর্যাপ্ত খাবার ছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এই বিভাগের মধ্যে তিনটি হাতি সংলগ্ন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত – চন্দ্রা, লালগড় এবং পীরঘাটায় ৫০,০০০ বাঁশ চারা লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাঁশ ছাড়াও বনকর্মীরা সাচ্চারুম নারেঙ্গা ঘাস রোপণ করছেন।

জঙ্গল মহলে সম্প্রতি লোকালয়ে হাতির হানা বেড়েছে। এর মূল কারণ হল জঙ্গলে খাদ্যের অভাব। তাই খাবারের সন্ধানে বারবার হাতি লোকালয়ে চলে আসছে, জমির পর জমি ফসল নষ্ট করছে। শুধু তাই নয়, বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এলাকায় হাতির হানায় প্রতি বছরে প্রায় ১০-১২ জন প্রাণ হারাচ্ছেন, যা বড় উদ্বেগের বিষয়।

জঙ্গলমহলে, বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে সারা বছর ধরে ১৫০-২০০টি হাতি থাকে। মঙ্গলবার পর্যন্ত, জঙ্গল মহলের একাধিক স্থানে প্রায় ১৮০টি হাতির উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে। বাঁশ লাগানোর খরচ যেহেতু কম, তাই হাতির খাবারের উৎস হিসেবে বাঁশকে বেছে নিয়েছে রাজ্য। সূত্র অনুযায়ী, এক হেক্টর জমিতে বাঁশ লাগানোর জন্য রাজ্যের মাত্র ৩০,০০০ টাকা খরচ পড়ছে। তাছাড়া, বাঁশের বৃদ্ধি কাঁঠাল এবং আম প্রভৃতি গাছের তুলনায় দ্রুত হয়।

রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা জানান, বাঁশের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চলে হাতির বিকল্প খাদ্যের উৎস তৈরির জন্য বিভিন্ন গাছ এবং ঘাস রোপণ করা হয়েছে। ফসলের ক্ষতি রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *