বাড়ি থেকে বেরিয়ে আদৌ স্কুলে যাচ্ছে তো সন্তান? বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে মোবাইল অ্যাপ! - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাড়ি থেকে বেরিয়ে আদৌ স্কুলে যাচ্ছে তো সন্তান? বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে মোবাইল অ্যাপ!

Spread the love

মৎস্যজীবী প্রধান এলাকায় সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাতে নিয়মিত স্কুলে যায়, ঠিক মতো পড়াশোনা করে এবং স্কুলে যাওয়ার নাম করে যাতে অন্যত্র না চলে যায়, তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে এক অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণ করল রাজ্য সরকার পোষিত একটি স্কুল। আগেই স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করার জন্য তারা চালু করেছিল বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম। এবার সেই ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়ে, চালু করা হল নয়া একটি মোবাইল অ্যাপ। যা একইসঙ্গে বাচ্চাদের বাবা-মা এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষকে জানান দেবে, সেই পড়ুয়া সেদিন স্কুলে সময় মতো পৌঁছেছে এবং সময়ে স্কুল থেকে বেরিয়েছে কিনা!

এই বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির নয়াপুট সুধীরচন্দ্র হাইস্কুল। কাঁথি-১ ব্লকের নয়াপুট এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলটির থেকে কাঁথি শহরের দূরত্ব ৬ থেকে ৭ কিলোমিটারের মতো। স্কুলের শিক্ষকরা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এখানকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই মৎস্যজীবী। রুজির টানে বাড়ির বড়দের সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। ফলে ছেলেমেয়েরা কোথায় গেল, সারাদিন ধরে কী করল, এসব খোঁজ রাখা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, বর্তমানে এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি হলেও ইদানীং স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের রোজের উপস্থিতির হার কমছে। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার নাম করে বেরোলেও তারা আসলে স্কুলে যাচ্ছে না?

এই প্রেক্ষাপটে স্কুলের নয়া মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলত, ছেলেমেয়েরা যখনই স্কুলে ঢোকার পর এবং বেরোনোর আগে বায়োমেট্রিকে নিজেদের আসা-যাওয়া নথিভুক্ত করাবে, সঙ্গে সঙ্গে তার বার্তা সংশ্লিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে তাদের বাবা-মায়ের মোবাইলে।

এছাড়াও, এই অ্যাপের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের স্টাডি মেটিরিয়াল, তাদের পড়াশোনা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত আপডেট স্কুলের তরফে সরবরাহ করা হবে। ফলে বাবা-মায়েরা স্কুলে না এসে বা বাড়িতে না থেকেও সব তথ্য হাতে হাতে পেয়ে যাবেন। এই সমস্ত কারণেই এই অ্যাপের নাম দেওয়া হয়েছে, অনলাইন স্টুডেন্ট মনিটরিং সিস্টেম।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘এই অ্যাপের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলছুটের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পঠনপাঠনের অনুপ্রেরণা দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য। কখনও ক্লাস টিচার যদি ক্লাসে পুরো নোট লেখাতে না পারেন তা হলে নোটের ছবি তুলে বা ছোট ভিডিয়ো বানিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করবেন। তা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে যাবে অ্যাপের মাধ্যমে। যার কারণে স্কুল ছুটি থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন চালু থাকবে।’

আর, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত না হলেও এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং তিনি অবশ্য বিস্তারিতভাবে সবকিছু খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *