India-Pakistan: মুখের উপরে দরজা দিল ভারত! পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে কোন জিনিসের বাড়বে? – Bengali News | India Pakistan Trade Deal Suspended, Which Products will get Expensive?
নয়া দিল্লি: ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে। যেকোনও মুহূর্তেই যুদ্ধ লাগতে পারে। তবে শুধু অস্ত্র দিয়ে জবাব নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে ভাতেও মারছে ভারত। একদিকে যেমন সিন্ধুর জল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তেমনই আবার বাণিজ্যও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমদানি-রফতানি সব বন্ধ। এতে দুই দেশে কী প্রভাব পড়বে? কোন কোন জিনিসের দাম বাড়বে?
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পাশাপাশিই পাকিস্তানিদের জন্য আটারি সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। পাকিস্তান প্রত্যাখাত করতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা করে। পাল্টা জবাবে সম্প্রতিই ভারত পাকিস্তানের থেকে আমদানিও বন্ধ করেছে। এই পরিস্থিতিতে কে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে, তা নিয়েই তরজা শুরু হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে পাকিস্তানই। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারত ৫১৩.৮২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য পাকিস্তানে রফতানি করেছিল। সেখানেই পাকিস্তান থেকে মাত্র ২.৫৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল।
২০২২-২৩ সালে পাকিস্তানে ৬২৭.১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছিল, সেখানেই ভারতে মাত্র ২০.১১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে ভারতের রফতানির অঙ্ক আরও বেড়ে ১১৮০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ভারতে মোট বাণিজ্যের মাত্র ০.০৬ শতাংশ পাকিস্তান থেকে হত। ভারত পাকিস্তানের উপরে একদমই নির্ভরশীল না হলেও, পাকিস্তান অনেকাংশেই ভারতের উপরে নির্ভরশীল।
ভারত থেকে পাকিস্তানে কী কী রফতানি হয়?
ভারত থেকে পাকিস্তানে একাধিক পণ্য রফতানি করা হয়। এর মধ্যে চাল, ফল, নারকেল, সবজি, চা, মশলা, চিনি, তৈলবীজ, পশুখাদ্য, ডেয়ারি পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও ওষুধ, নুন, মোটর পার্টস, ডাই, কফি ইত্যাদি।
ভারত রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় পাকিস্তানে খাদ্যপণ্য থেকে ওষুধ, গাড়ির যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক পণ্য়ের দাম বেড়ে যাবে।
পাকিস্তান থেকে ভারতে আমদানি-
ফল, সৌন্ধক লবণ, ড্রাই ফ্রুটস, পাথর, তুলো, অর্গানিক কেমিক্যাল, চামড়ার পণ্য, তামা, মুলতানি মাটি ইত্যাদি।
ভারতে ফলের সঙ্কট তেমন দেখা যাবে না, কারণ পাকিস্তান থেকে কেবল তরমুজ, খরমুজই আমদানি করে। চামড়ার পণ্য বা তুলোরও বিশেষ সঙ্কট দেখা যাবে না। কেবল সৌন্ধক লবণের দাম সামান্য বাড়তে পারে। তাও গুজরাটের কচ্ছে নুন উৎপাদন করা হয়, যার কারণে সঙ্কট দেখা দেবে না।
