Explained: কেন গুনে গুনে ২৬টিই 'আকাশভেদী' রাফাল কিনল ভারত? - Bengali News | Explained Why India Invest 63 Thousand To Buy Rafal M Fighter Deal - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: কেন গুনে গুনে ২৬টিই ‘আকাশভেদী’ রাফাল কিনল ভারত? – Bengali News | Explained Why India Invest 63 Thousand To Buy Rafal M Fighter Deal

Spread the love

কলকাতা: নৌসেনার জন্য ‘আকাশভেদী’ কিনেছে ভারত। সোমবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফ্রান্সের সঙ্গে মোট ৬৩ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নয়াদিল্লি। চলতি মাসের প্রথম দিকেই এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। তারপর কয়েক সপ্তাহ পেরতেই অবশেষে রফা হল রাফাল চুক্তি। জানা গিয়েছে, বায়ুসেনা নয়, বরং নৌসেনার জন্যই এবার এত টাকা খরচ করল ভারত সরকার।

কিন্তু বেছে বেছে কেন ২৬টিই রাফাল আনা হচ্ছে ভারতে?

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সোমবার রাফাল চুক্তির স্বাক্ষর হলেও, এর প্রথম ব্যাচের যুদ্ধবিমান ভারতে আসতে এখনও অনেকটাই দেরি রয়েছে। ২০২৮ সালে প্রথম ব্যাচের ডেলিভারি করবে ফ্রান্স। ২০৩১ সালের মধ্যে শেষ হবে রাফাল পাঠানোর কাজ।

এই সময়কালে মোট ২৬টি রাফাল পাঠাবে ফ্রান্স। যার মধ্যে ২২টি এক আসনের ও চারটি দুই আসনের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। এই রাফালগুলিকে রাখা হবে নৌসেনার অন্যতম ‘ভরসা’ আইএনএস বিক্রান্ত ও আইএনএস বিক্রমাদিত্যে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে মোট ৫৭টি রাফাল যুদ্ধবিমান চেয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। কিন্তু এতগুলি রাফাল এক সঙ্গে কেনা অনেকটা পরিমাণ টাকার ব্যাপার হওয়ায়, আপাতত নৌসেনাকে ২৬টি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বলে কেন্দ্র।

কিন্তু কেন এত বেশি চাহিদা রাফালের?

ফরাসি দাসো কোম্পানির তৈরি রাফাল আসলে টেক্কা দিতে পারে অন্য যে কোনও যুদ্ধবিমানকে। এর আগে ২০১৫ সালে ওই সংস্থার থেকে মোট ৩৬টি রাফাল কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। সেই রাফালগুলি আনা হয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য। এবার এল নৌসেনার জন্য।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গোটা বিশ্বজুড়ে এক নামে পরিচিতি রাফালের। মাল্টি রোলিং ক্ষমতা সঙ্গে শত্রু নিক্ষেপে ধুরন্ধর। সব মিলিয়ে রাফালের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। তার সঙ্গে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির তৈরি অস্ত্র। যত দূরেই থাকুক শত্রু, রাফালের SCALP ক্রুস মিসাইল তাকে নিমিষে ধ্বংস করতে সক্ষম। এছাড়াও, রাফাল কিন্তু নিজের মধ্যে বইতে পারে ইউরোপীয় SCALP মিসাইলকেও। এই ক্ষেপণাস্ত্র ২৫০ কিলোমিটার দূরে বসে থাকা শত্রুকেও শেষ করতে সক্ষম। ইরাক, লিবিয়া-সহ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধগুলিতে স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার দেখা গিয়েছিল।

এমনকি, রাফাল এম নিজের মধ্য়ে একটি এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলও বহন করতে পারে। এই মিসাইলগুলি আকাশে থেকেই নিজের শত্রুকে নিকেশ করে। যা এমন যুদ্ধ প্রস্তুতির আবহে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে জানেন কি, কতটা দ্রুত আকাশকে ভেদ করে এগোতে পারে রাফাল এম? ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ঘণ্টায় ২ হাজার ২২২ কিলোমিটার গতিবেগে আকাশকে চিরে দিয়ে ছুটে যেতে পারে রাফাল। যা মিনিটে পার করে দেবে পাকিস্তানকে। বুঝে উঠতেও পারবে না তারা।

উল্লেখ্য, ভারতে রাফালের আগমনের সঙ্গে কিন্তু জুড়ে রয়েছে বিতর্কও। ২০১৫ সালে দেশে প্রথমবার রাফাল আনার কথা ঘোষণা করে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কোনও বিদেশি সংস্থাকে দেওয়া এটি দেশের প্রথম যুদ্ধবিমানের বরাত। সেই সময় মোট ৩৬টি রাফালের চুক্তি করা হয়েছিল ফ্রান্সের দাসো কোম্পানির সঙ্গে। যুক্তি ছিল একটা আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়ার মতো দেশগুলিও রাফাল কিনে ফেলেছে, ভারত কেন পিছিয়ে থাকবে?

কেন্দ্র সরকার তরফে জানানো হয়, ভারত প্রথমে মোট ১৮টি রাফাল কিনে আনবে। তারপর সেই গুলির মাধ্যমে আরও ১০৮টি রাফাল তৈরি করা হবে ভারতেই। কিন্তু তেমনটা হয়নি। উল্টে এখনও পর্যন্ত দাসো কোম্পানির সঙ্গে ৬২টি রাফালের চুক্তি করে ফেলেছে নয়াদিল্লি। তবে বিতর্কটা কোথায়? এক রাফালের অত্যাধিক দাম। দুই, রাফাল আনার মাধ্যমে শিল্পপতি ‘অনীল অম্বানিকে’ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে মোদী সরকার, অভিযোগ বিরোধীদের। তাদের দাবি, রাফাল চুক্তির পরেই যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির বরাত পেয়েছিল অনিলের সংস্থা রিলায়েন্স। তবে ২০১৬ সালে রিলায়েন্সের পাওয়া এই চুক্তি দিনশেষে কোনও ফলাফল তৈরি করতে পারেনি। সেই সময় যন্ত্রাংশ তৈরি জন্য রিলায়েন্সকে সাহায্য করার কথা বলেছিল ফরাসি দাসো কোম্পানি। কিন্তু ২০২৪ সালে ফ্রান্সের এই সংস্থা রিলায়েন্সের মাথার উপর থেকে হাত সরিয়ে নেয় এবং তারা ঘোষণা করে ভারতে তারা নিজেরাই রাফাল তৈরি ও সারাইয়ের কারখানা তৈরি করবে। যা তৈরি হয়ে গেলেও, তাতে আরও বিনিয়োগ ও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। দাসোদের সঙ্গে করা নতুন চুক্তি আসলে ঘুরপথে সেই বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ, দাবি একাংশের।

তবে রাফালের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ তুলে বিরোধীরা। সেই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়। ২০১৮ সালে সেই মামলার রায় দেয় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গোগোই-এর বেঞ্চ। সেই রায়ে বিরোধীদের করা সমস্ত অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে ভারত-ফ্রান্সের রাফাল চুক্তি ক্লিনচিট দেয় শীর্ষ আদালত। এমনকি, সরকার অনিল অম্বানিকে কোনও ‘সুবিধা’ করে দিচ্ছে না বলেও উঠে আসে সেই রায়ে। জানানো হয়, ভারতে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব তৈরির জন্য় দাসো কোম্পানি নিজে থেকে অনিল অম্বানির সংস্থাকে নির্বাচন করেছে। যদিও রায়ের বছর কয়েক পরে সেই দাসো-অম্বানি সম্পর্কও ভেঙে যায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *