নাবালিকার স্তন চেপে ধরা পকসো আইনে ধর্ষণের চেষ্টা নয়, জানাল কলকাতা হাইকোর্ট - 24 Ghanta Bangla News
Home

নাবালিকার স্তন চেপে ধরা পকসো আইনে ধর্ষণের চেষ্টা নয়, জানাল কলকাতা হাইকোর্ট

Spread the love

যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে শহর থেকে জেলায়। ভিন রাজ্যে এমন অভিযোগ বিস্তর রয়েছে। নারী সুরক্ষায় জোর দেওয়ার কথা প্রত্যেক রাজ্য সরকারই বলে থাকে। সেখানে নাবালিকার স্তন চেপে ধরা পকসো আইনে ধর্ষণের চেষ্টা নয় বলে পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকলেও এটাকেই মেনে নিতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে এক মামলার শুনানি চলাকালীন এমন পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী ওই মামলায় আবেদনকারীকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

নাবালিকার স্তন চেপে ধরার মতো অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর শুরু হয় বিচার। এমনকী পকসো আইনের দুটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় ওই ব্যক্তিকে। সাজা দেওয়া হয় ১২ বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। কিন্তু ওই ব্যক্তিই সংশ্লিষ্ট রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আর তাঁর দাবি, তাঁকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ফাঁসানো হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার কোনও প্রমাণ তাঁর বিরুদ্ধে নেই। আর তা কেউ পেশ করতেও পারেনি। আদালতে প্রমাণ লাগে। মুখের কথায় কিছু হয় না সেটা বিলক্ষণ বোঝেন ওই ব্যক্তি।

আরও পড়ুন:‌ বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর বিতর্কিত পোস্টার, সম্প্রীতি রক্ষায় তৃণমূলের শান্তি মিছিল

কিন্তু এই আবেদন কলকাতা হাইকোর্টে করার আগে ২ বছর ৪ মাস জেল খেটে ফেলেন ওই ব্যক্তি। পুলিশ এবং নিম্ন আদালতে এই কথা বলে কোনও কাজ হয়নি বলেও তাঁর দাবি। এই পরিস্থিতিতে মামলাকারীর আইনজীবী ভরা এজলাসে দাবি করেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে কোনও পেনিট্রেশন হয়নি। আর পকসো আইনের ১০ নম্বর ধারা, যা কিনা যৌন হেনস্থার সামিল সেই অভিযোগ আনা যেতে পারে। তার জেরে ৫–৭ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এই সওয়াল শোনার পর সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দেখার পর ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, পেনিট্রেশনের কোনও প্রমাণ নেই। তাই জোর করে নাবালিকার স্তন চেপে ধরার প্রমাণ থেকে চরম যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠতে পারে। কিন্তু সেটা ধর্ষণের চেষ্টা নয়।

কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপান করে নেশায় বুঁদ হয়ে এক নাবালিকার স্তন চেপে ধরেছিল। তবে পেনিট্রেশনের কোনও চেষ্টা সেখানে করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রসঙ্গত, এই পর্যবেক্ষণের আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছিল, নাবালিকার স্তন খামচে ধরা অথবা পাজামার দড়ি ছিঁড়ে দেওয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না। এলাহবাদ হাইকোর্টের সেই রায় নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। যদিও পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *