‘২৫ বছরে কখনও দেখিনি…’, জঙ্গলের পথে দৌড়চ্ছিল রক্তাক্ত পর্যটকরা, ছুটে গিয়ে উদ্ধার করেন আব্দুল – Bengali News | Abdul Majid, Who Lives in Baisaran Saved Tourist’s Lives, Says Never Saw Anything like this in 25 Years
বৈসরণকে এভাবে দেখেননি মজিদ ও তাঁর মেয়ে।Image Credit source: TV9 বাংলা
শ্রীনগর: পহেলগাঁওয়ের বধ্যভূমি বৈসরণ ভ্যালির যাত্রাপথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে গভীর জঙ্গলের মধ্যে জনবিচ্ছিন্ন একমাত্র কুঁড়েঘর। পরিবার নিয়ে থাকেন আব্দুল মজিদ আওয়ান। সঙ্গে থাকেন স্ত্রী ও ১৫ বছরের মেয়ে। জনশূন্য এই পাহাড়ি পথে কেউ আসেনা। কিন্তু ২২ এপ্রিল এই রাস্তা দিয়েই পর্যটকরা ছুট লাগিয়েছিলেন প্রাণ বাঁচাতে। পিছনে তখন ভেসে আসছে গুলির শব্দ।
বৈসরণের জঙ্গলের মধ্যে খচ্চর চড়িয়ে, কাঠ কেটে সংসার চলে আব্দুল মজিদ আওয়ানের। পহেলগাঁও শহরে মজদুরিও করেন। জঙ্গলের মধ্যে যে রাস্তায় তাঁদের ঘর, সেই পথে পর্যটকরা আসে না। কিন্তু স্থানীয় খচ্চর সহিসরা সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। বিগত ২৫ বছর ধরে রয়েছেন এই জঙ্গলঘেরা, জনশূন্য পাহাড়ি পথে। কোনওদিন ২২ এপ্রিলের মতো ঘটনা চোখে দেখেননি। সেদিন প্রাণভয়ে ওই জঙ্গলের নির্জন রাস্তা দিয়েও পালাচ্ছিল পর্যটকরা। বাড়ি থেকে ছুটে গিয়ে এক এক করে রক্তাক্ত পর্যটকদের উদ্ধার করেছিলেন আব্দুল মজিদ।
তাঁর ১৫ বছরের মেয়ে এখনও বিভীষিকা ভুলতে পারেনি। ভয়ে বেরোচ্ছে না ঘর থেকে। বন্ধ স্কুল। কবে খুলবে ঠিক নেই। কিশোরী বলেন, “আগে কখনও দেখিনি এমন। আগে কখনও ভয় লাগেনি, কিন্তু এখন ভয় লাগছে। স্কুল-কলেজ সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাশ্মীরকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।”
কিশোরীর স্বপ্ন উকিল হওয়ার। এই স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন জঙ্গলের নির্জন পাহাড় বেয়ে পহেলগাঁও শহরের স্কুলে যেত সে। একদিনের বিভীষিকা আগামী ভবিষ্যতের স্বপ্ন সবকিছুকে ধুলিস্যাৎ করে দেবে কি না এখন সেই আতঙ্ক চোখে মুখে লেগে আছে।
