নিজের দেশে উদ্বাস্তু তাঁরা, ওয়াকফ হিংসায় ঘরছাড়াদের পাশে রামকৃষ্ণ মিশন, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নিজের দেশে উদ্বাস্তু তাঁরা, ওয়াকফ হিংসায় ঘরছাড়াদের পাশে রামকৃষ্ণ মিশন, বাংলার মুখ

ওয়াকফ হিংসার জেরে এখনও ঘরছাড়া কয়েকশো মানুষ। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান থেকে পালিয়ে গিয়ে পড়শি জেলা মালদায় আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। মালদার পারলাপুর হাই স্কুল এখন উদ্বাস্তু শিবিরে পরিণত হয়েছে। সেখানেই ত্রাণ পৌঁছে দিল রামকৃষ্ণ মিশন। গত ১৫ এপ্রিল ৫২ জন শিশু সহ ৪০৭ জনকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহ ত্রাণ বিতরণ করা হয় রামকৃ্ষ্ণ মিশনের তরফ থেকে। (আরও পড়ুন: চোখ খুলে ঘুমিয়ে পড়া বাংলাদেশের স্বপ্ন ভাঙবে এবার? বড় পরিকল্পনা ভারতের)

আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে ‘হিন্দু বিরোধী’ ভাষণ পড়শি দেশের সেনা কর্তার, খসে পড়ল মুখোশ

রামকৃষ্ণ মিশনের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে মালদার কালিয়াচকের পারলালপুর হাই স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ৩৫৫ জন ব্যক্তি এবং ৫২ জন শিশুকে সাময়িক ত্রাণ প্রদান করেছে মালদার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সম্পন্ন হয়েছিল এই ত্রাণ বিতরণ। ৩৫৫ জন ব্যক্তির প্রত্যেকে সাবান, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, ডিটারজেন্ট পাউডার, গামছা, চুলের তেল, বিস্কুট এবং কেক সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেয়েছেন। এছাড়াও, ৫২ জন শিশুকে হরলিক্স/বেবি ফুডের প্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে।’

এদিকে রামকৃষ্ণ মিশনের এই ত্রাণ বিতরণের প্রশংসায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজের পোস্টে লেখেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা; মানবসেবা ঈশ্বরের উপাসনার সমতুল্য। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে আপনার সময়োপযোগী সহায়তা অভাবীদের জন্য সান্ত্বনা এবং আশা এনেছে।’

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় বিক্ষোভের জেরে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল ১১ এপ্রিল থেকে। এই হিংসার জেরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কিশোর আছে। সে গত ১১ এপ্রিল গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। এদিকে ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ স্থানীয়দের। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এলাকায় এখন বিএসএফ টহল দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, সামশেরগঞ্জের রানিপুরের জাফরাবাদে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, বাবা ও ছেলেকে প্রথমে পেটানো হয়েছে, তারপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এরপর জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাড়ি ও টোটো। অভিযোগ, পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও পুলিশ আসেনি।

এদিকে ১২ এপ্রিল ধুলিয়ান পুরসভাতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এদিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধুলিয়ানে একটি শপিংমলে লুটপাট চালানো হয়। এদিকে ফারাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের দাদা আলির বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকী বিধায়ককেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। হেনস্থা করা হয় বিধায়ককে। জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুরের অফিসেও হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এদিকে মুর্শিদাবাদে হিংসার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি এলাকায় টহল দিচ্ছে বিএসএফ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *