‘এই বছরের মধ্যেই শিক্ষক সমস্যার সমাধান হবে’, নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা মমতার
আজ, বৃহস্পতিবার এসএসসি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার এবং চাকরিহারাদের স্বস্তি মিলেছে। যে প্যানেল বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্ত থেকে খানিকটা সরে এসে যোগ্যদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকী পরবর্তী নিয়োগ করার ক্ষেত্রে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নবান্ন থেকে শিক্ষকদের সমস্যা চলতি বছরের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই নিয়ে যখন রাজ্য–রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছিল সেখানে এবার অনেকটা স্বস্তি মিলেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কদিন আগেই প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মী সকলের চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেখান থেকে অনেকটা ভাল নির্দেশ মিলেছে। আর তারপরই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় পেয়ে গিয়েছি। অনেকে বলছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যাবে। কিন্তু ২০২৬ সাল পর্যন্ত যাওয়ার প্রশ্ন নেই। এই বছরের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ এই কথা শোনার পর চাকরিহারাদের মধ্যে খুশির জোয়ার এসেছে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে বলে বিরোধীরা জোর আওয়াজ তুলেছিল। এতজনের চাকরি খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে কটাক্ষ ধেয়ে এসেছিল। সেখানে আজকের সুপ্রিম কোর্টের রায় এগুলির জবাব দিয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘আপাতত স্বস্তি। এখন বেতন দেওয়া যাবে। আমরা কথা দিয়েছিলাম যাতে অসুবিধা না হয় সেটা দেখব। এই বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি। মানুষের কাজে আমি ভুল করি না। আমার কাজে ভুল হতে পারে। সময় কিছুটা পাওয়া গিয়েছে। এটা একটা স্বস্তি যখন মিলেছে তখন বাকিটাতেও স্বস্তি আসবে। দিল্লি থেকে আমাদের আইনজীবীরা এলে ব্রাত্য বসুকে বলেছি কথা বলতে।’
এছাড়া চাকরিহারা যোগ্য যাঁরা তাঁরা স্কুলে যেতে পারবে বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুতরাং একটা বড় অংশের শিক্ষক–শিক্ষিকারা সোমবার থেকে স্কুলে যেতে পারবেন। তাতে শিক্ষা ব্যবস্থা আবার চাঙ্গা হবে। হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন তাঁরা। নববর্ষের পরই এল সেই সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শিক্ষকরা নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পাবেন। আমরা ভাবছিলাম কেমন করে বেতন দেবো। তাই বলব আইনের উপর ভরসা রাখুন। সরকারের উপর ভরসা রাখুন। আমরা সবসময় শিক্ষকদের পক্ষে। আপনাদের আঘাত লাগলে সেটা আমারও বেদনার। চিন্তা করবে না। মন দিয়ে স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান।’