বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে কট্টরপন্থীরা, শিশুকোলে ভারতে ঢুকে গ্রেফতার বাংলাদেশি পরিবার, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে কট্টরপন্থীরা, শিশুকোলে ভারতে ঢুকে গ্রেফতার বাংলাদেশি পরিবার, বাংলার মুখ

Spread the love

কখনও ভুট্টার ক্ষেত, কখনও বাঁশঝাড়, তো কখনও চা বাগান – রাতভর এসব আড়াল করেই লুকিয়ে ছিলেন তাঁরা। তার মধ্যে যখনই একটু সুযোগ পেয়েছেন, নিজভূম ছেড়ে পরভূমের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে এসেছেন। শেষমেশ পার পার করেন সীমান্ত। বাংলাদেশের জমিন ছেড়ে এসে ঢোকেন ভারতীয় ভূখণ্ডে। কিন্তু, তাতেও শেষ রক্ষা হল না। স্থানীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেলেন একই পরিবারের তিন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হল পরিবারের নাবালক সন্তানটিকেও। শনিবার (১২ এপ্রি, ২০২৫) সকালে এই ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারের কুচলিবাড়ি থানা এলাকার ধাপা বাজারে।

সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা তথ্য অনুসারে, একই পরিবারের এই চার সদস্য ছাড়াও অনুপ্রবেশের অভিযোগেই আরও এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করেছে ওই এলাকারই পুলিশ।

ধৃতদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, তাদের হাতে পাকড়াও হওয়া চারজনের পরিবারটি আদতে বাংলাদেশের নীলফামারি জেলার ডোমার থানা এলাকার বাসিন্দা। তারা মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবার। এত দিন কোনও সমস্য়া ছিল না। কিন্তু, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই শুরু হয় ‘জীবন-যন্ত্রণা’। অন্য একাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের মতোই তাদের উপরেও নেমে আসে কট্টরপন্থীদের অত্য়াচার।

পরিবারের কর্তা জানান, বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা এখনও রয়েছেন। তাঁদের পক্ষে চোরা পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকা সম্ভব ছিল না। উপরন্তু, বাপ-ঠাকুরদার ভিটে ছেড়ে তাঁরা আসতেও চাননি। কিন্তু, তাঁরাই চেয়েছিলেন – পরিবারের বাকি চার সদস্য অন্তত প্রাণে বাঁচুক। বাংলাদেশে তাঁদের প্রাণ সংশয় ছিল বলে দাবি ধৃতদের। ইতিমধ্য়েই তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, বাড়িতে আগুন পর্যন্ত ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন – সুজনচন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী মাধবীরানি রায় এবং সুজনের শ্যালিকা নিদ্রারানি রায়। এছাড়াও, বাবা-মায়ের কোলে চড়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে ফেলেছে সুজন-মাধবীর নাবালক ছেলেও। রায় পরিবারের সদস্যদের দাবি, গোপনে সীমান্ত পার করানোর জন্য দালালকে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। সুজনের পরিকল্পনা ছিল, ভারতেই কোনও একটা কাজ জুটিয়ে পরিবার নিয়ে থাকবেন। কিন্তু, তার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেলেন তাঁরা।

এছাড়াও, আরও যে একজন যুবককে শনিবার অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, তিনি পুলিশকে জানান, বাংলাদেশে এখন কাজের আকাল। কাজ নেই, তাই রোজগারও নেই। তাই চকরি জোটাতেই বেআইনিভাবে ভারতে ঢোকেন তিনি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *