‘এখানে আপনারা হামাস, প্যালেস্তাইন, পাকিস্তান, সিরিয়া, আইসিস-এর ফ্ল্যাগও দেখতে পাবেন! কিন্তু...’, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘এখানে আপনারা হামাস, প্যালেস্তাইন, পাকিস্তান, সিরিয়া, আইসিস-এর ফ্ল্যাগও দেখতে পাবেন! কিন্তু…’, বাংলার মুখ

Spread the love

ধর্মীয় ইস্যুতে ফের একবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারকে দুষলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আজ (শুক্রবার – ১১ এপ্রিল, ২০২৫) তিনি বলেন, রামনবমী উদযাপনের সময় বেছে বেছে নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতীককেই নিশানা করা হয়েছে। আর এর জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের সরকারই দায়ী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই বিষয়ে দিলীপ বলেন, ‘এখানে আপনারা হামাস, প্যালেস্তাইন, পাকিস্তান, সিরিয়া এবং এমনকী আইসিস-এর পতাকাও দেখতে পাবেন। কিন্তু, রামনবমীর পতাকা এখানে গাড়ি থেকে খুলে নেওয়া হয়।’

দিলীপ ঘোষ ফের একবার প্রশ্ন তোলেন, কলকাতা কি ঢাকায় পরিণত হয়েছে? নাকি এই শহর বদলে গিয়ে সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান হয়ে গিয়েছে? তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এটাই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।

দিলীপের মতে, এবারের রামনবমীতে যেভাবে রাজ্যের নানা প্রান্তে বিরাট বিরাট মিছিল দেখা গিয়েছে, তা দেখে প্রশাসন ঘাবড়ে গিয়েছে। তিনি আরও মনে করেন, গেরুয়া পাতাকা গাড়ি থেকে খুলে দেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক মদত ও উদ্দেশ্য রয়েছে।

দিলীপের কথায়, ‘কলকাতা কি ঢাকা, সিরিয়া নাকি আফগানিস্তান হয়ে গিয়েছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি সেটাই চাইছেন? এবারের রামনবমীতে রাজ্যজুড়ে বিরাট বিরাট মিছিল বেরিয়েছে। তা দেখেই রাজ্য প্রশাসন এই সমস্ত আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছে।’

দিলীপের সুরে সুর মিলিয়ে এই একই ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় পশ্চিমবঙ্গকে ‘আরও একটি বাংলাদেশ’ হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছেন। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর মধ্য়ে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যার জেরে রাস্তায় অশান্তি ছড়াচ্ছে।

খগেনের দাবি, সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে রমনবমী উপলক্ষে যেখানে যত শোভাযাত্রা হয়েছিল, সেসবই ছিল একেবারে অরাজনৈতিক। তাঁর মতে, এর থেকেই স্পষ্ট যে হিন্দুদের মধ্যে একতা ক্রমশ বাড়ছে।

মমতাকে আক্রমণ করে খগেন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের উস্কানি দিচ্ছেন এবং তাঁদের রাস্তায় নামাচ্ছেন। এভাবেই তিনি পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। রামনবমীতে যে বিরাট শোভাযাত্রা বের হয়েছিল, তা একেবারেই অরাজনৈতিক ছিল। যা থেকে স্পষ্ট যে হিন্দুরা ক্রমশ জেগে উঠছে।’

প্রসঙ্গত, রামনবমী উপলক্ষে এবার রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রচুর শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। বহু ক্ষেত্রে এই ধরনের আয়োজন ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি দেখা গিয়েছে। সংখ্যাগুরুদের সঙ্গে কখনও পা মিলিয়েছেন সংখ্যালঘুরা। আবার কখনও সংখ্যাগুরুদের মিছিলে মিষ্টি, জল ও শরবত বিলি করেছেন তাঁরা।

কিন্তু, তারপরও মেরুকরণের রাজনীতি এবং তা নিয়ে আলোচনা থামেনি। সেইসঙ্গে, বেশ কিছু এমন ঘটনা ঘটেছে, যা অনভিপ্রেত বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। সেই আবহে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি পরস্পরকে দোষারোপ ও পালটা দোষারোপ করেই চলেছে। তার মধ্যেই ফের একবার রাজ্যের সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করলেন বিজেপির দুই নেতা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *