জিআই তকমা পেল মালদার রেশম, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বোনা শুরু, বাংলার মুখ
মালদার নিস্তারি প্রজাতির রেশম সুতো। জিআই তকমা পেল এই প্রজাতির রেশম সুতো। মালদার টুপিতে নতুন পালক। রেশম শিল্পের দিক থেকে বরাবরই সামনের দিকে ছিল মালদা, মুর্শিদাবাদ। সেই নবাবী আমল থেকে এই শিল্পের কদর। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পের কদর কমতে থাকে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই মুখ ফিরিয়েছিলেন এই শিল্পের দিক থেকে। ফের এই শিল্পে জোয়ার আসতে পারে এবার। এবার একটা বড় প্রাপ্তি মালদার রেশমের।
তবে মালদার এই রেশম শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারি স্তরে কিছু প্রচেষ্টা চলছিল। আপাতত ফল মিলল । এবার নিস্তারি প্রজাতির রেশম সুতো জিআই তকমা পেয়েছে। এই সুতো যাতে জিআই তকমা পায় তার চেষ্টাও চলছিল। অবশেষে এই খবরে খুশি এখানকার রেশম শিল্পীরা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে রেশম শিল্প। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও এই রেশম সুতোর জিআই তকমা মেলায় বেশ খুশি।
বর্তমানে বহু জায়গাতেই হাইব্রিড রেশম গুটি হয়ে থাকে। তবে মালদার নিস্তারি রেশম আদি ও অনন্য। এর থেকে যে সুতো বের হয় তা অত্যন্ত ফিনফিনে। তবে এর গুটি হয় অপেক্ষাকৃত ছোট। উজ্জ্বল সোনালি রঙের এই সুতো। একেবারে যেন সোনার মতো।
রাজ্যের ৭০ শতাংশ রেশম উৎপাদিত হয় এই মালদায়। আর মালদার নিস্তারি গুটি ক্রমশই বিপন্ন হয়ে যাচছিল। মূলত হাইব্রিডের চাপে হারিয়ে যাচ্ছিল এই নিস্তারি রেশম। তবে এবার জিআই তকমা মেলায় এই নিস্তারির কদর আরও বাড়বে। ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারবে মালদার রেশম শিল্প।
ফের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন মালদার রেশম শিল্পীরা। ফের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে পাবে মালদার রেশম শিল্প। দেশের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও এবার মালদার রেশমের একটা পরিচিতি তৈরি হবে। সেই আশায় দিন গুনছেন অনেকেই। সেই সঙ্গে আর্থিক দিক থেকে সেভাবে লাভের মুখ দেখেন না রেশম শিল্পীরা। এবার কীভাবে এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
মালদায় অন্তত ২৪ হাজার একর জমিতে তুঁতের চাষ হয়। প্রায় ৬৭ হাজার পরিবার এই রেশম চাষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন এই জেলায়। প্রায় ৬ লাখ মানুষ নানাভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এবার জিআই তকমা পেল এই জেলারই বিশেষ প্রজাতির রেশম। এর জেরে খুশির জোয়ার রেশম শিল্পীদের মধ্য়ে।