প্রতিমন্ত্রী হয়েও মাসের পর মাস বিধানসভায় গরহাজির! মনোজের আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাংশ, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রতিমন্ত্রী হয়েও মাসের পর মাস বিধানসভায় গরহাজির! মনোজের আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাংশ, বাংলার মুখ

শেষ কবে তাঁকে বিধানসভায় দেখা গিয়েছিল, মনে করতে পারছেন না সতীর্থ বিধায়করা! এমনকী, তিনি যে মাসের পর মাস বিধানসভায় গরহাজির থাকছেন, সেটাও এত দিন কারও নজরে আসেনি! তিনি নিজেও কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানি! অথচ, তিনি রাজ্যের একজন প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব তাঁকে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ঝাঁ-চকচকে সেই দফতরেও তিনি বড় একটা যান বলে শোনা যাচ্ছে না, তাহলে কি তিনি আর মন্ত্রিত্বে থাকতে চাইছেন না? নাকি কোনও কারণে রাজনীতিই ছেড়ে দিতে চাইছেন?

যাঁকে ঘিরে এত প্রশ্ন, তিনি আর কেউ নন – প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা হাওড়ার শিবপুরের বিধায়ক এবং রাজ্য়ের অন্যতম প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশন, এমনকী গত শীতকালীন অধিবেশনেও নাকি বিধানসভামুখো হননি মনোজ! আনন্দবাজার পত্রিকা অনুসারে, বিষয়টি এত দিন নাকি জানতেনই না তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের সদস্যরা!

কিন্তু, গত ১৯ ও ২০ মার্চ (২০২৫) দলের তরফে হুইপ জারি করার পরও যাঁরা বিধানসভার অধিবেশনে সামিল হননি, সেই দলীয় বিধায়কদের নামের তালিকা তৈরি করতে গিয়েই বিষয়টি পরিষদীয় দলের নজরে আসে। সূত্রের দাবি, মনোজের এই আচরণে নাকি বেজায় ক্ষুব্ধ শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্যদের একাংশ।

তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে হাওড়া উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁকে সেবার ক্রীড়া ও যুবকল্য়াণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন মমতা। দলীয় সূত্রের দাবি, আগাগোড়া রাজনীতির লোক না হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্মীরতন কিন্তু বিধানসভায় হাজির থাকতেন। নিজের দফতরের কাজেও সক্রিয় থাকতেন।

কিন্তু, একুশের নির্বাচনে লক্ষ্মীরতন আর ভোটে দাঁড়াতে চাননি। দাবি করা হয়, সেই সময় তৃণমূলের হয়ে কাজ করা ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্য়াক মনোজকে শিবপুর কেন্দ্র থেকে ভোটের লড়ার জন্য রাজি করায়। সমানতালে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার শর্তে সেই প্রস্তাবে রাজি হন মনোজ। শিবপুরে জয়ী হন তিনি। মমতা এবার তাঁকে লক্ষ্মীরতনের উত্তরসূরি হিসাবে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করেন।

কিন্তু, প্রথম থেকেই হাওড়ার প্রবীণ তৃণমূল নেতা অরূপ রায় এবং হাওড়ার পুর-প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাদ শুরু হয় তাঁর। একটা সময় ক্রিকেট থেকেও অবসর নেন মনোজ। কিন্তু, একইসঙ্গে নিজের দফতরে ও বিধানসভায় যাওয়াও কার্যত বন্ধ করে দেন তিনি।

বিষয়টি এত দিনে নজরে আসায় দলের অন্দরেই নানা প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু, যেহেতু মনোজ একজন প্রতিমন্ত্রী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিষয়টি নিয়ে মনোজের বক্তব্য জানার জন্য বারবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, মনোজের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *