যাদবপুরে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে মিটিং করা যাবে না, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের - 24 Ghanta Bangla News
Home

যাদবপুরে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে মিটিং করা যাবে না, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Spread the love

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও রাজনৈতিক নেতা অথবা গুরুত্বপূর্ণ কাউকে নিয়ে কোনও সেমিনার, মিটিং করা যাবে না। আজ, বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনেরও নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর আবেদন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। প্রত্যেক গেটে রাজ্য পুলিশ দেওয়া হোক। স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করা হোক।

এদিকে সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবকুপার বৈঠক হয়। তাতে বাম এবং অতি বামেরা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়। অধ্যাপকদের নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। খোদ উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যা নিয়ে রাজ্য–রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। এবার প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম প্রশ্ন করেন, ‘‌বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় জানার পরও কেন রাজনৈতিক নেতা সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন? তার প্রভাব পড়তে পারে জেনেও তিনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন?‌ এই বিষয়টি স্পষ্ট নয় আদালতের কাছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালযে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ কাউকে নিয়ে কোনও সেমিনার, মিটিং করা যাবে না।’‌

আরও পড়ুন:‌ ‘‌আপনারা কবে ছাত্রভোট করবেন সেটা ঠিক করে জানান’‌, সময় বাঁধল কলকাতা হাইকোর্ট

অন্যদিকে মার্চ মাসেই ওয়েবকুপার সভাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সভায় গেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা করা হয়। তখন ঘেরাও হঠাতে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি চালক গাড়ি চালালে গাড়ির ধাক্কায় দুই ছাত্র জখম হন বলে অভিযোগ। তাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‌যাদবপুরে গুণ্ডা রাজ চলছে। ২০১৪ সালের পর শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের হয়েছিল। একাধিক এফআইআর হয়। বশ মানে না এমন ঘোড়া ছুটে বেড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা নির্দেশ দেবেন মাথা পেতে নেব। শুধু শান্তি চাই। আমরা নিরুপায়।’‌

যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘‌বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের কোন ক্ষমতা থাকে না। তাদের হাতে কোনও অস্ত্র থাকে না। তাহলে রাজ্যের পুলিশের সাহায্য আপনারা নিতে চান না কেন? প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করুন। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় তাদের বের করতে হবে। রাজনৈতিক রং বাদ দিন। কেন এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছিল?‌ সেটায় নজর দিন। উপাচার্য–সহ বাকিদের ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। তাঁরা চাইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হবে।’‌ তিন সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *