বাঘাযতীনের সেই হেলে পড়া বহুতল গুঁড়িয়ে দিল KMC, এখনও ঝুলে ট্যাংরার হেলে পড়া বাড়ির ভাগ্য!, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাঘাযতীনের সেই হেলে পড়া বহুতল গুঁড়িয়ে দিল KMC, এখনও ঝুলে ট্যাংরার হেলে পড়া বাড়ির ভাগ্য!, বাংলার মুখ

Spread the love

মাস দুয়েক আগে কলকাতার বাঘাযতীনে হেলে পড়া যে চারতলা (জি প্লাস থ্রি) বহুতল সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল, সেটিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শেষ করল কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বাড়িটি যে অবস্থায় ছিল, তাতে সেটিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না পুর কর্তৃপক্ষের হাতে। কারণ – হেলে পড়া ওই বাড়িটি একদিকের বাউন্ডারি ওয়াল বা সীমানা পাঁচিলের ভর করে কোনও মতে ‘দাঁড়িয়ে’ ছিল।

শুধু তাই নয়। ওই হেলে পড়া বাড়িটি যে জমিতে নির্মাণ করা হয়েছিল, তার পাশের জমিতেই (প্লট) একটি একতলা বাড়ি রয়েছে। হেলে পড়া বহুতলের একেবারে উপরের অংশটি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ওই একতলা বাড়িটির উপর কার্যত ‘ঝুলে’ ছিল! ফলত, যেকোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

অন্যদিকে, ট্যাংরার ক্রিস্টোফার রোডেও পাঁচতলা (জি প্লাস ফোর) একটি বাড়ি একইভাবে হেলে পড়েছিল পড়েছিল। যার ভারে পাশের বাড়িটিও হেলতে শুরু করে। তাই পুর কর্তৃপক্ষের তরফে ওই বহুতলটিরও পাঁচতলার অংশটি ভেঙে দেওয়া হয়।

কলকাতা পুরনিগম (কেএমসি)-এর বিল্ডিং বিভাগের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই হেলে পড়া বহুতলটিও সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে কিনা, সেই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয় হয়নি। এই বিষয়ে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররা যা পরামর্শ ও প্রস্তাব দেবেন, সেই অনুসারেই পদক্ষেপ করা হবে। আপাতত পুরনিগম কর্তৃপক্ষ তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণেরই অপেক্ষা করছে।

পুর নিগমের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়র আমাদের এই বিষয়ে রিপোর্ট দেবেন। আমরা তাঁর সেই রিপোর্টের জন্যই অপেক্ষা করছি। তারপরই ঠিক করা হবে, আমরা ওই বহুতলের বাকি তলগুলিও ভেঙে ফেলব, নাকি সেগুলি ওভাবেই রেখে দেওয়া হবে।’

সূত্রের দাবি, অঘটন এড়াতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে হেলে পড়া ওই বহুতলের চারতলার একটা অংশ ভেঙে দেওয়া হতে পারে। তাতে পাশের বাড়িটির অন্তত আর কোনও ক্ষতি হবে না। তবে, এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এদিকে, বাঘাযতীনের ঘটনায় যাঁরা গৃহহারা হয়েছেন, এর আগে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিল কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। কথা হয়েছিল, যাতে ওই একই জমিতে পুনরায় ওই বাসিন্দাদের জন্য একটি বিধিসম্মত বহুতল তৈরি করে দেওয়া হয়, সেই বিষয়ে তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। এখন সেই বাসিন্দারাই অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে পুর কর্তৃপক্ষ তাঁদের জন্য একটি অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে!

সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্য়েই ওই জমি থেকে সমস্ত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা হবে। উল্লেখ্য, তিনটি সংস্থা একত্রে এই হেলে পড়া বহুতলটি ভেঙে ফেলার কাজ করেছে। যাতে জনবহুল ওই এলাকায় আর কোনও বিপদ না ঘটিয়েই যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ করা যায়।

কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই কাজ অত্যন্ত কঠিন ছিল। সামান্য একটু ভুল হলেও বড় অঘটন ঘটতে পারত। আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সুপারভাইজারদের বলেই দিয়েছিলাম, খুব সাবধানে কাজ শেষ করতে হবে। কারণ, আমরা একেবারেই চাইনি যে এই কাজের ফলে পাশের বাড়িগুলি ন্যূনতম কোনও ক্ষতি হোক।’

 

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *