‘রবীন্দ্রনাথের আদর্শ ভালো বুঝি, আশা করি কোনও সমস্যা হবে না!’ HT বাংলায় Exclusive বিশ্বভারতীর নতুন উপাচার্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘রবীন্দ্রনাথের আদর্শ ভালো বুঝি, আশা করি কোনও সমস্যা হবে না!’ HT বাংলায় Exclusive বিশ্বভারতীর নতুন উপাচার্য

Spread the love

Visva Bharati New VC Exclusive: দীর্ঘ ১৫ মাস পর স্থায়ী উপাচার্য পেল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে ছাত্র-উপাচার্য সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতিতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছিল। পড়ুয়া আশ্রমিকদের তরফে বারবার সংগঠিত হয় প্রতিবাদ। অন্যদিকে এই সংঘাতের জন্য কেন্দ্র-রাজ্যের টানাপোড়েনের সাক্ষী হতে হয় বিশ্বভারতীকে। আপাতত সে সবকিছুই অতীত। অস্থায়ী উপাচার্য এতদিন দায়িত্ব সামলানোর পর বিশ্বভারতীর স্থায়ী উপাচার্য হয়ে আসছেন বিজ্ঞানী প্রবীর কুমার ঘোষ। তাঁর নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আশাপ্রত্যাশার পারদ চড়েছে শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক ও বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের মধ্যে। এই আবহে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে এক্সক্লুসিভ কথোপকথনে যোগ দিলেন বিশ্বভারতীর নতুন উপাচার্য।

‘রবীন্দ্রনাথের আদর্শ আমি বুঝি’

একদিকে যেমন শান্তিনিকেতন, তেমনই অন্যদিকে শ্রীনিকেতন। কালীমোহন ঘোষ, লিওনার্ড নাইট এলমহার্টসহ একাধিক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘ ভাবনার বাস্তব ফসল এই শ্রীনিকতন। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে বিদেশে গিয়ে শিক্ষালাভ করে দেশে ফিরে এখানকার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব নেন। ঘটনাচক্রে শ্রীনিকেতনে বিশ্বভারতীর কৃষিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি পাশ করেছেন নয়া উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘আমি যেহেতু ওখানে পড়াশোনা করেছি, রবীন্দ্রনাথের আদর্শ আমি বুঝি। তাছাড়া আমি কেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগেও কাজ করেছি। ওর্য়াল্ড ব্যাঙ্কে তিন বছর ভারতের হয়ে কোয়ালিটি এডুকেশনের কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছি। ফলে নয়া শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে প্রোমোট করতে হবে, এডুকেশন পলিসি কীভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে, সেই ধারণা রয়েছে।’

আরও পড়ুন – স্থায়ী উপাচার্য পেল বিশ্বভারতী, কৃষিবিজ্ঞানী প্রবীরের পড়াশোনা শান্তিনিকেতনেই

‘নিজের রাজ্যে ফিরে ভালো লাগছে’

কৃষিবিজ্ঞানে দীর্ঘ ২০ বছর গবেষণা করেছেন প্রবীর ঘোষ। তার পর ১৪ বছর রিসার্চ সংক্রান্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্বে। এর আগে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটিক স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের ডাইরক্টর ও ভিসি ছিলেন প্রবীর। ছাত্রজীবনে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা বিশ্বভারতীতে। কর্মজীবনের শেষে উপাচার্য হিসেবে সেখানে ফিরতে পেরে কেমন অনুভূতি? প্রবীরবাবুর কথায়, ‘ভীষণ ভালো লাগছে, আমি ৩৫ বছর কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করেছি বিভিন্ন রাজ্যে। কিন্তু নিজের রাজ্যে পরিষেবা দিতে পারিনি‌। ফলে এটা নিঃসন্দেহে আমার কাছে ভালো সুযোগ। আগামী পাঁচ বছর নিজের রাজ্যে পরিষেবা দিতে পারব জেনে বেশ ভালো লাগছে।’

সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা প্রিয়?

আদ্যোপান্ত কর্মজীবন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা নিয়েই কেটেছে। সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করতে ভালোবাসেন প্রবীর? হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে প্রবীণ অধ্যাপক জানালেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। তাঁর আইডিয়োলজির সঙ্গেও পরিচিত। তাছাড়া আমি মুর্শিদাবাদের ছেলে। সংস্কৃত নিয়ে টুয়েলভ ক্লাস পর্যন্ত পড়েছি বাংলা মাধ্যমে। গ্রাজুয়েশন করেছি রবীন্দ্রনাথেরই প্রতিষ্ঠান থেকে‌। ফলে আশা করি সংস্কৃতির নিরিখে কোনও বাধা আসবে না।’ 

বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিতর্ক প্রসঙ্গে

বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিতর্ক জাতীয় স্তরেও আলোচনার প্রসঙ্গ হয়েছে বেশ কয়েকবার। সেই পদের দায়িত্বভার নেওয়ার আগে মানসিক প্রস্তুতি কেমন? নতুন উপাচার্যের কথায়, ‘বিশ্বভারতীর এই ব্যাপারটি নিয়ে আমি বিশদে কিছুই জানি না। ৩৫ বছর রাজ্যের বাইরে ছিলাম।‌ সাধারণভাবে খবর থেকে যেটুকু চোখে পড়ে, আমি সেটুকুই জানতে পেরেছি। এর ভিত্তিতে হয়তো মন্তব্য করা ঠিক নয়। ওখানে গিয়ে সবটা  বুঝে নেওয়ার পর আমার কাছে বিষয়টা স্পষ্ট হবে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *