বাড়ির অমতে প্রেম করে বিয়ে, জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধ করল পরিবার চোপড়ায়, চর্চা তুঙ্গে
পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেছিল মেয়েটি। এটাই তাঁর অপরাধ। পরিবারের সদস্যরা তাই জীবিত মেয়েরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন। নিজের বাপের বাড়ির লোকেদের এমন আচরণ জানতে পেরে খুব কষ্ট পেলেন যুবতী। এই পরিবারের সঙ্গে এতদিন কেমন করে থাকলেন? নিজের কাছেই প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিল যুবতীর। গতকাল এমনই ঘটনায় চর্চা তুঙ্গে উঠেছে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করার অর্থ হল, তাঁদের মেয়ে মারা গিয়েছে পরিবারের কাছে। আর এভাবেই মেয়ের সম্পর্ক শেষ করে দিল ওই পরিবার বলে অভিযোগ।
এদিকে এই ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের মেয়ে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রেম করে একজন যুবককে বিয়ে করেছে। এই ঘটনায় তারা স্তম্ভিত। তারা মনে করেন, তাদের মেয়ে এই কাজটি করে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। আর পরিবারের সম্মান সে নষ্ট করেছে। তাই ঘটনার কথা জানতে পেরে তারা মেয়েকে মৃত বলে মনে করে মৃতার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন। যাতে ওই মেয়েটির আত্মার শান্তি পায়। ওই মেয়ের সঙ্গে এভাবেই সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়। শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করার পর কান্নাকাটিও করতে দেখা যায় বাড়ির লোকজনকে। যা নিয়ে চোপড়া এলাকা জুড়ে চর্চা চলছে।
আরও পড়ুন: এবার মেলার আয়োজন করছে কলকাতা পুরসভা, সুস্বাস্থ্যের বার্তা দিতেই অভিনব উদ্যোগ
অন্যদিকে আজ, রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দোকান পাট, বাজারহাটে এই ঘটনা নিয়ে জটলা করে আলোচনা চলছে। নিজের মেয়ের সঙ্গে একটা পরিবার এমন কাজ কেমন করে করল? তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের। এখন প্রেম করে বিয়ে কার ট্রেন্ড। সেখানে এখনও এমন রক্ষণশীল পরিবার আছে তা অনেকে ভাবতেও পারছেন না। পরিবারের সদস্যরা রীতিমতো হিন্দু রেওয়াজ অনুযায়ী নিয়ম, আচার মেনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করেন এবং গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য খাওয়ানো পর্যন্ত হয়। মেয়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যাতে আগামী দিনে এই গ্রামের আর কোনও মেয়ে এভাবে পরিবারের অমতে অন্য ছেলের সঙ্গে প্রেম করে হাত ধরে পালিয়ে বিয়ে করতে না সাহস পায় তাই এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৯ মার্চ প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন ওই যুবতী। তাঁর আর কিছু করার ছিল না। পরিবার সম্পর্কে তিনি সবটা জানতেন। তাই পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। পরিবার ওই বিয়ে ভাঙিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু মেয়েকে ফেরাতে না পারায় এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন বলে ওই যুবতীর পরিবার জানিয়েছেন। চোপড়া থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই যুবতীকে উদ্ধারও করেছিল পুলিশ। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সাবালিকা মেয়ের জবানবন্দিতে নতুন সংসারেই ফেরত পাঠানো হয় আইনি প্রক্রিয়ায়।