৭ বছর ধরে ধর্ষণ করেছে বাবার ‘বন্ধু’! অবশেষে গ্রেফতার সেই ‘ধর্ষক’, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

৭ বছর ধরে ধর্ষণ করেছে বাবার ‘বন্ধু’! অবশেষে গ্রেফতার সেই ‘ধর্ষক’, বাংলার মুখ

Spread the love

সালটা ছিল ২০১৮। মেয়েটির বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। অভিযোগ, সেই কিশোরী বয়সেই প্রথমবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে। ‘ধর্ষক’ আর কেউ না, তার বাবার সবথেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু! যার আসলে তার ‘বাবার মতোই’ হওয়া উচিত ছিল।

বর্তমানে সেই মেয়ের বয়স ২২ বছর। তাঁর দাবি, সেই ২০১৮ সাল থেকে বাবার ওই ‘বন্ধু’ তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজেকে বাঁচাতে কন্য়াসম বন্ধুর মেয়েকে ধর্ষণ করার সময় সেই সমস্ত কুকর্মের ভিডিয়োও তৈরি করেছে অভিযুক্ত। যেগুলি ছিল তার হাতিয়ার। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়েই এতগুলো বছর ধরে কিশোরী থেকে তরুণী বয়সে পৌঁছানো মেয়েটির উপর লাগাতার পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছে সেই ব্যক্তি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে অভিযুক্তের বয়স ৪৬ বছর। তাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, নিগৃহীতার বাবা-মা যখন এই গোটা ঘটনা জানতে পারেন, তখন তাঁদেরও একইভাবে ভয় দেখায় ও হুমকি দেয় ওই ব্যবসায়ী।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী নিগৃহীতার বাবার সবথেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। ফলত, মেয়েটির বাড়ির অন্দর মহলে ঢোকা এবং তার একেবারে কাছে পৌঁছে যাওয়া তার কাছে খুবই সহজ ছিল।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গত প্রায় ৭ বছর ধরে মেয়েটিকে শোষণ করার পর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বন্ধুর মেয়েকেই বিয়ে করার ছক কষছিল! একথা জানার পরই তরুণী রুখে দাঁড়ান। অবশেষে তিনি তাঁর বাবা-মাকে সবটা জানান।

এই ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় হরিদেবপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে এই ঘটনায় চার্জশিট তৈরি করে তা আদালতে পেশ করবে।

ডিসি রাহুল দে-কে উদ্ধৃত করে টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর একটি প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০১৮ সাল থেকে মেয়েটির সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত যে সেটা করেছে, তা এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় মেয়েটি নাবালিকা ছিল। তাই, আইনত তখনও সে এই বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। অভিযুক্ত এই সমস্ত ঘটনার ছবি তুলে এবং ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে রেখেছিল এবং সেগুলির সাহায্যেই সে মেয়েটিকে ভয় দেখাত। সে মেয়েটিকে এই বলে শাসিয়েছিল যে যদি সে তার কথা মতো কাজ না করে, তাহলে ওই সমস্ত ছবি আর ভিডিয়ো সে অনলাইনে ফাঁস করে দেবে।…’

‘মেয়েটির বাবা-মা যখন জানতে পারেন, তাঁদের সন্তানের উপর এভাবে অত্যাচার করা হয়েছে, তাঁরা এর প্রতিবাদ করেন। তখন তাঁদেরও ভয় দেখানো হয়। অভিযুক্ত নিজের বাড়িতে এবং নির্যাতিতার বাড়িতে এ নিয়ে মেয়েটির বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ও তাঁদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে।’

গত ৩ মার্চ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা-মা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্য়ান্য ফৌজদারি ধারার পাশাপাশি পকসো আইনেও মামলা রুজু করা হয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *