পিতৃপরিচয় ঠিক থাকলে একটা লোম ছুঁয়ে দেখাক, হুমায়ুনকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, বাংলার মুখ
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলেই দলের শো কজের মুখে পড়েছেন। জবাব দিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সেই হুমায়ন কবিরকে ফের আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা। এবার সরাসরি বললেন, পিতৃপরিচয় সঠিক থাকে আমাকে ছুঁয়ে দেখতে বলবেন।
এদিন হলদিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘একটা উন্মাদ, হাফ ম্যাড, পাগল। ওর কথার উত্তর দেব না। কালকে তো ওর সামনে দিয়ে গিয়েছি। আবার ১৮ তারিখে বিধানসভায় যাব। ওর যদি পিতৃপরিচয় সঠিক থাকে আমাকে ছুঁয়ে দেখতে বলবেন। বিধানসভা চত্বরে তো কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা থাকে না। আমি একা থাকি। আমার একটা লোম ছুঁয়ে দেখতে বলবেন। আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। সিপিএমের সূর্য মধ্যগগনে থাকার সময় আমি লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়েছি। লক্ষ্মণ শেঠ ছোট খাটো লিডার থাকেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত মুখ্যমন্ত্রী, দাঁড় করিয়ে হারিয়েছি। আবার ভবানীপুরেও হারাব।’
বৃহস্পতিবার সকালে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী জাতিগত আক্রমণ করছে কেন প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করছে না? পুলিশ কি নাকে ঠুসি দিয়ে আছে? আমাকে কেন আমার জাতির জন্য এত চিৎকার করতে হয়? কেন এখানে আইনশৃঙ্খলা সমস্যা তৈরি করছে, গোটা একটা মুসলিম জাতিকে আক্রমণ করছে? পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? ব্যর্থতার কথা আমি বলব না। পুলিশ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে?’
হুমায়ুন আরও বলেন, ‘গোটা মুসলিম সমাজকে এভাবে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা বন্ধ না করলে, বা যে কথা বলেছে মঙ্গলবার সেই কথা যদি প্রত্যাহার না করে মুর্শিদাবাদে ওনাকে পাঠিয়ে দেন, আগে থেকে যেন আপনাদের জানিয়ে দেয় কখন যাচ্ছেন, তার পর আমি আমার ভূমিকা দেখাব। ঘিরে রেখে দেব। ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করলে তবে ছাড়ব। হিম্মত থাকলে ফিরুক না। উনি বলছে তো ওনার কেশাগ্র স্পর্শ করলে এই করব, ওই করব। আগে একটা বিধায়ককে চ্যাংদোলা করে দেখান না। কত হিম্মত দেখব।’
এর পরই ভরতপুরের বিধায়ক ঘোষণা করেন, ‘আমার জাতিকে আক্রমণ করবে আমি বলব না? আমার কাছে আগে দল না, আগে আমার জাতি। আপনি লিখে নিন, আমি অত পরোয়া করি না। আমার জাতিকে আক্রমণ করবে আর আমি শুভেন্দুকে ছেড়ে দেব? কোনও মতেই ছাড়ব না। প্রত্যাহার করতে হবে, নইলে মুর্শিদাবাদে যেতে দিন। দেখাব মুর্শিদাবাদে হুমায়ুঁ কবির স্পটে না থেকেও শুভেন্দু অধিকারীর কী অবস্থা হয়।’
বিকেলে জানা যায়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁর প্রশ্নের জন্য হুমায়ুন কবিরকে শো কজ করেছে তৃণমূলের বিধানসভার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। জবাব দিতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে তাঁকে।