নজরদারি এড়িয়ে বাংলায় ১০০০ একর জমিতে মাদক চাষ, অভিযান চালিয়ে নষ্ট করল পুলিশ
গাঁজা চাষ বা পোস্ত চাষ বেআইনি। এই চাষ বন্ধ করতে পুলিশের তরফে ধরপাকড় থেকে শুরু করে সচেতন করা হয়। তারপরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের নজর এড়িয়ে জমির পর জমিতে গাঁজা ও পোস্ত চাষ হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে সবমিলিয়ে হাজার একর জমিতে চাষ হওয়া মাদক নষ্ট করেছে পুলিশ। যারমধ্যে ৭০০ একর জমির গাঁজা এবং ৩০০ একর জমির পোস্ত গাছ পুলিশ নষ্ট করেছে। এই অবস্থায় বেআইনি মাদক চাষ রুখতে আরও বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ওষুধ হিসেবেও কি এবার কাজে লাগবে গাঁজা? কী বলছে নতুন গবেষণা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত বাঁকুড়া, কোচবিহার, বীরভূম জেলায় সবচেয়ে বেশি গাঁজা এবং পোস্ত গাছ নষ্ট করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তা থেকে স্পষ্ট যে এখনও রাজ্যে বেআইনিভাবে মাদকের চাষ হচ্ছে বহু এলাকায়। আরও যেসব এলাকায় বেআইনিভাবে এইসব মাদকের চাষ করা হচ্ছে, সেখানেও হানা দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সাধারণত পোস্ত ফল রান্নায় ব্যবহার করা হলেও এই গাছের আঠা থেকে আফিম তৈরি হয়, যা থেকে মাদক তৈরি হয়। ফলে পোস্ত চাষ বাংলায় নিষিদ্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, ড্রোন উড়িয়ে প্রথমে মাদক চাষের জমি চিহ্নিত করা হয়। তা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানতে পেরেছে, মূলত যেসব জমি রুক্ষ এবং অন্যান্য ফসল চাষের জন্য উপযোগী নয়, মূলত সেই সব জমিতে মাদক চাষের জন্য মোটা টাকা কৃষকদের টোপ দিয়ে উৎসাহিত করত মাদক পাচার চক্রের পান্ডারা। ফলে মোটা টাকা পাওয়ার আশায় সহজেই পোস্ত চাষের জন্য রাজি হয়ে যেতেন চাষিরা।
জানা গিয়েছে, নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার বিশ্লেষণ করে মাদক চাষের বিষয়ে জানতে পারে। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে ড্রোন উড়িয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। তারপরেই অভিযান চালানো হয়। জানা যাচ্ছে, রুক্ষ জনহীন এলাকা বা নদীর চরে এই ধরনের বেআইনি চাষ বেশি করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে, এই ধরনের মাদক চক্রের সঙ্গে বাংলা এবং ঝাড়খণ্ডের যোগ রয়েছে। মূলত ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে মাদকের চাষ হচ্ছে। আর সেখান থেকে কাঁচামাল চলে আসছে বাংলায়। বিভিন্ন গোপন ডেরায় সেই কাঁচামাল থেকে তৈরি হয় মাদক।