SFI Leader: ‘পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন তো! প্রশ্নটা করতেই পুলিশ আমাকে…’, পুলিশি অত্যাচারের কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন সুচরিতা - Bengali News | SFI on Jadavpur, SFI leader speaks about police atrocities in front of TV 9 Bangla camera - 24 Ghanta Bangla News
Home

SFI Leader: ‘পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন তো! প্রশ্নটা করতেই পুলিশ আমাকে…’, পুলিশি অত্যাচারের কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন সুচরিতা – Bengali News | SFI on Jadavpur, SFI leader speaks about police atrocities in front of TV 9 Bangla camera

মেদিনীপুর: যাদবপুরকাণ্ড তোলপাড় রাজ্য। এরইমধ্যে খবরের শিরোনামে মেদিনীপুর কলেজও। যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে ডাকা ছাত্র ধর্মঘটের দিন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হওয়ায় AIDSO-র চার নেত্রীর ওপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার ওসি-র বিরুদ্ধে। পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তুলছে এসএফআই-ও। তাঁদেরও একাধিক কর্মীর গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের তরফেও আলাদা কেস করা হয়েছে। এই মেদিনীপুর কলেজেই পড়েন সুচরিতা দাস। বর্তমানে সেখান থেকে অঙ্কে স্নাতক করছেন। সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বললেন টিভি-৯ বাংলার ক্যামেরার সামনে। গুরুতর অভিযোগ তুললেন পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, আগে থেকেই টার্গেট করে রেখেছিল পুলিশ। ধর্মঘটের দিন তুলে নিয়ে গিয়ে পুরনো রাগ মিটিয়েছে পুলিশ। সুচরিতার কথায়, “জাল স্যালাইন কাণ্ড নিয়ে আমরা ডিএম অফিস অভিযান করেছিলাম। পুলিশ কর্মীরা নিজেরাই বলছিলেন ওনারা আমাকে তখন থেকেই টার্গেট করে রেখেছিলেন। নিজেরাই বলেন, ওখান থেকেই তোকে টার্গেট করে রাখা হয়েছে। ডিপার্টমেন্টে তুই মার্ক হয়ে আছিস। তোর উপর নিজের মতো সুখ মিটিয়ে নেব আজকে।” কিন্তু ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল? 

‘শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করা হয়’

সুচরিতা বলছেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই ৩ মার্চ মেদিনীপুর কলেজে ধর্মঘট পালন করছিলাম। সকালেই কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশের ৫০ জনের একটা টিম দেখা যায়। ওরা মেন গেটটা গার্ড করে দাঁড়িয়েছিল। আমরা যেহেতু কলেজের রানিং স্টুডেন্ট তাই ঢুকতে কোনও অসুবিধা হয়নি। ভিতরে গিয়ে দেখি অনেক ক্লাস বন্ধ। আর যে ক্লাসগুলো চলছিল সেখানে গিয়ে স্যরদের সঙ্গে কথা বলি। ধর্মঘটের কথা বলি। স্যররা বলেন হাজিরা দিয়ে ছেড়ে দেবেন। আর কোনও ক্লাস হবে না। এরইমধ্যে দেখা যায় পুলিশ সরে যায়।” সুচরিতার দাবি, ঠিক এই সময়েই কলেজে ঢুকে পড়ে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী। শুরু হয় তাণ্ডব। অত্যাচার। সুচরিতা বলছেন, “ওরা ঢুকেই আমাদের মারতে থাকে। আমাদের পতাকা-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। টিএমসিপির পুরুষ কর্মীরা আমার বান্ধবীদের জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করা হয়। আমাকে হঠাৎ ক্য়াম্পাস থেকে টেনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। টিএমসিপির ছেলেরাই করে এটা। তখন বাইরে থেকে পুলিশের কথা শুনতে পাচ্ছি আমরা। ওখানকার আইসি, মহিলা থানার ওসি, অ্যাডিশনাল এসপি বলছেন ওকে বের করে আনো। বাকিটা আমরা দেখে নেব। এটা আমি নিজে শুনতে পেয়েছি। তারপর ওরা নিজেদের সামলাতে না পেরে ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আমাকে লাথি মারতে শুরু করে। পুরুষ পুলিশ কর্মী করেছে। তারপর টেনে নিয়ে চলে যায়। গাড়িতে তোলে। তারপর চড়-থাপ্পার ছিলই, কুরুচিকর মন্তব্যও করা হয়।”

‘ওনারা বলেন তোর মতো শুতে গিয়েছিলাম’

সুচরিতার দাবি থানায় নিয়ে গিয়েও বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, এমন ঘরে তাঁকে রাখা হয় যেখানে সিসিটিভি পর্যন্ত ছিল না। তিনি বলছেন, “মহিলা থানায় নিয়ে সিসিটিভি নেই ঘরে সেখানে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। একবার করে মারা হয় আর হাজতে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। আমাকে গ্রেফতারও করেনি।” সুচরিতার দাবি গ্রেফতার না করেও তাঁর সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে এই প্রশ্ন করা হলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন পুলিশ কর্মীরা। তিনি বলছেন, “আমি প্রশ্ন করতেই বলে তোরা অনেক শিখে গিয়েছিস। তোরা অনেক শিক্ষিত। কিন্তু আমাদের অধিকার শেখাতে আসিস না। এটা এক মহিলা পুলিশ কর্মী বলেন। আমি ওনাদের জিজ্ঞেস করি আপনারা পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন তো? তখন ওনারা বলেন তোর মতো শুতে গিয়েছিলাম। শুয়ে চাকরি পেয়েছি। ছাত্র হিসাবে এটা বলতেও আমার বাধছে। ওদের মারের চোটে হাতে কালশিটে পড়ে গিয়েছে। ঘাড়ে, পায়ে, শরীরের নানা জায়গায় লেগেছে।” 

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *