যাদবপুর কাণ্ডে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখাই ভালো বলে সাব্যস্ত করেছে বিজেপি?
শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রবিক্ষোভের পর থেকে ফের তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বাম ও অতিবামদের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াই ফের নেমে এসেছে রাস্তায়। আর বাম – তৃণমূলের সম্মুখ সমরে ফের একবার চরম অসহায় অবস্থায় বিজেপি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বামেদের সমর্থন দাবি করলেও এব্যাপারে এখনও মুখ খোলেননি কোনও বিজেপি নেতা। তাদের আশঙ্কা, বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনায় সমবেদনার ভোট কাটতে পারে বামেরা।
শনিবার তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠনের সভায় যোগদান করতে গিয়েছিলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন করানোর দাবিতে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বামপন্থী ছাত্ররা। শিক্ষামন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের কথা না শুনেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন ছাত্ররা। তখনই ইন্দ্রানুজ রায় নামে এক ছাত্রের ওপর দিয়ে চলে যায় শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ছাত্র। তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শনিবার রাত থেকে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বামপন্থী ছাত্ররা। ওদিকে তৃণমূলের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করা হয়েছে। ঘটনায় মোট ৫টি FIR ও পালটা FIR হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির দফতর। পালটা রাজ্যের একাধিক জায়গায় সিপিআইএম কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে।
শনিবার দুপুর থেকে এই ঘটনাক্রমে কার্যত নিরব দর্শকের ভূমিকায় বিজেপি। এই ঘটনায় তাদের কী অবস্থান হওয়া উচিত তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি তারা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে তৃণমূল ও বামেদের আঁতাত বলে দাবি করেছেন বহু বিজেপি সমর্থক। তাদের দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে হিন্দু ভোট ভাগ করতে বামেদের লাইম লাইটে আনতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই পরিকল্পনামাফিক এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই নিয়ে নিশ্চুপ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনায় বিজেপি এমন কিছু করতে চায় না যাতে বামেরা বাড়তি ডিভিডেন্ট পেয়ে যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বিজেপি। সেজন্য ইতিমধ্যে হিন্দু নবজাগরণের মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কোনও ভাবে বিধানসভা ভোটের আগে বামেরা পালে হাওয়া পেলে গেলে বিজেপির সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। তাই আপাতত গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল।