HSLC Examination 2025: 'হিন্দু হলে ফ্রি তে চিকিৎসা, নচেৎ নয়', উচ্চ মাধ্যমিকের প্রশ্ন ঘিরে শুরু তুমুল বিতর্ক - Bengali News | Controversy on social science exam question HSLC Examination 2025 Assam SEBA Under Fire - 24 Ghanta Bangla News
Home

HSLC Examination 2025: ‘হিন্দু হলে ফ্রি তে চিকিৎসা, নচেৎ নয়’, উচ্চ মাধ্যমিকের প্রশ্ন ঘিরে শুরু তুমুল বিতর্ক – Bengali News | Controversy on social science exam question HSLC Examination 2025 Assam SEBA Under Fire

Spread the love

অসমে চলছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় সেই সংক্রান্ত নানা বিধ খবর শোনা যায়। জালিয়াতি, টুকলি থেকে প্রশ্ন পত্র লিক ফাঁস হয়ে যাওয়া, বিতর্কের শেষ নেই। তবে এই বার যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা কার্যত প্রশ্ন তুলে দিয়েছে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরেই। এই মুহূর্তে নেটমাধ্যমে ভাইরাল একটি প্রশ্নপত্র। নানা ফাঁস হয়নি। বরং সেই প্রশ্ন পত্রের একটি প্রশ্ন নিয়ে বেঁধেছে গোল। শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার ম্যাট্রিকুলেশনের সামাজিক বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। সেখানে ৫৭ নম্বর প্রশ্নটি ঘিরে যত সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কী সেই প্রশ্ন যা নিয়ে এখন উত্তাল সমাজমাধ্যম?

৫৭ নম্বর প্রশ্নটি ছিল, “ধরুন সরকার ডাম্বুক নামক একটি গ্রামে একটি হাসপাতাল স্থাপন করেছে। হাসপাতালটি হিন্দুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করে। অন্যান্য ধর্মের লোকদের তাদের চিকিৎসার খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়। ভারতের মতো দেশে কী সরকার এই ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে? তোমার মতামত দাও।”

এই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। একজন এক্স মাধ্যমে প্রশ্ন পত্রের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আমরা কী আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরণের শিক্ষা চাই? SEBA দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হাসপাতালটি হিন্দুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করে। অন্যান্য ধর্মের লোকদের তাদের চিকিৎসার খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়। সত্যিই? আমাদের সংবিধানের সাম্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে শেখানোর পরিবর্তে কেন শিক্ষার্থীদের বিভেদমূলক নীতির মুখোমুখি করা হচ্ছে?”

এই বিষয়ে বিশিষ্ট কবি নীলিম কুমার বলেন, “এটি আসলে কোনও প্রশ্ন নয় এটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যন্ত্রণা। এই প্রশ্নের কোন নির্দিষ্ট উত্তর নেই। এই প্রশ্নের ‘পারে’ অথবা ‘পারে না’ উভয় উত্তরই সঠিক। যেহেতু ছাত্রছাত্রীরা কেবল তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে আর মতামত সবার ভিন্ন হতে পারে! ব্যক্তিগত মতামতে কোন ঠিক/ভুল নেই। এটা আসলে প্রশ্ন তোলার বিষয় নয়, এটা একধরনের মতামত চাওয়ার বিষয়।”

একজন সমাজমাধ্যমকারী ব্যবহারকারী বলেন, “ম্যাট্রিকের সামাজিক বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র এত জটিল করে তোলা হয়েছে যে অসমের ছাত্রছাত্রীদের মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।”
অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “ম্যাট্রিকুলেশনের মতো পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন গ্রহণযোগ্য নয়। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

আরেকজন বলেন, “মনে হচ্ছে আজকের ম্যাট্রিক সামাজিক বিজ্ঞানের প্রশ্ন ছোট বাচ্চাদের মনে বিষাক্ত জীবাণু ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যা ভয়াবহ। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তনের পরেও এই বিষ দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মনে থাকবে। এই ধরণের প্রশ্নপত্রের উদাহরণ পৃথিবীতে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

কেউ কেউ আবার এই প্রশ্নকে সমর্থন করেই লিখেছেন, “ম্যাট্রিকের সামাজিক বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র দেখে ভালো লাগলো। প্রশ্নকর্তাকে সালাম। প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার পদ্ধতিটি প্রশাসনিক (পাবলিক) পরিষেবা পরীক্ষার মতো। তারাই মুখস্থকে তাদের শেষ সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছে।”

একজন বলেন, “প্রশ্ন ৫৭ ভুল বা খারাপ নয়। উত্তর হলো, ভারত সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান অধিকার ভোগ করতে পারবে। অতএব, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে অধিকার ভোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এখানে প্রশ্নটি শিক্ষার্থীর সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা পরিমাপ করে।”

একজনের মতে, “ভারতের মতো দেশে সরকার এই ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে না। ভারতের সংবিধান (ধারা ১৪) ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে”

এখন প্রশ্ন হলো বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাট্রিক ‘সমাজ বিজ্ঞান’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কি শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য? উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন কি করা যায়? প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *