বাড়ি-দোকান বন্ধক, মাথায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের পাহাড়! অকূলপাথারে সুতন্দ্রার মা তনুশ্রী, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাড়ি-দোকান বন্ধক, মাথায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের পাহাড়! অকূলপাথারে সুতন্দ্রার মা তনুশ্রী, বাংলার মুখ

Spread the love

টাকার অঙ্কটা সামান্য নয়, প্রায় ৫০ লক্ষ! হ্যাঁ, মারা যাওয়ার আগেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছিলেন পানাগড় গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের বাবা সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়। সুতন্দ্রার মৃত্যুর পর সেই ঋণ কীভাবে শোধ হবে, আপাতত সেই উত্তরই খুঁজে চলেছেন সর্বহারা প্রৌঢ়া – সুতন্দ্রার মা – তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, সুকান্তবাবু ছিলেন রেলের ঠিকাদার। কিন্তু, একটা সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। তখনই চন্দননগরের নাড়ুয়ায় অবস্থিত তাঁদের বসত বাড়ি এবং চন্দননগরেরই পালপাড়া এলাকায় থাকা তাঁদের একটি দোকান বন্ধক দেন সুকান্ত। ঋণ নেন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা!

এরপরই সুকান্ত ক্যান্সার ধরা পড়ে। জলের মতো টাকা খরচ করা হলেও সুকান্তকে বাঁচানো যায়নি। এদিকে, তাঁর মৃত্যুর পরই বাড়িতে ঘন ঘন ব্যাঙ্ক থেকে ফোন আসতে শুরু করে। তখনই জানা যায়, বাড়ি ও দোকান বন্ধক দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সুকান্ত।

প্রতিবেশীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঋণের এই বিপুল বোঝার কথা জানার পরই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল চট্টোপাধ্যায় পরিবারের। কিন্তু, সুতন্দ্রা চেষ্টা করছিলেন যাতে অন্তত বাড়িটা বাঁচানো যায়। বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য আরও বেশি করে কাজ করছিলেন তিনি। পাশাপাশি, দোকান ঘরটি কাউকে বিক্রি করা যায় কিনা, সেই চেষ্টাও করছিলেন।

এরই মধ্যেই সোমবার সকালে খবর এল, সেই সুতন্দ্রা আর নেই। তাঁর মা তনুশ্রী বুঝতেই পারছেন না, মেয়ের চলে যাওয়া নিয়ে শোক করবেন? নাকি ঋণ কীভাবে মেটাবেন, সেই চিন্তা করবেন?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারই সুতন্দ্রাদের সেই দোকান ঘরে নাকি নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়ে গিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তনুশ্রীর আশঙ্কা, এবার হয়তো মাথার উপর ছাদটুকুও হারাবেন তাঁরা।

এরই মধ্যে আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫) সকালে চট্টোপাধ্য়ায়দের বাড়িতে গিয়েছিলেন চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। তাঁকে দেখেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন সুতন্দ্রার ঠাকুমা কল্পনা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কাতর আবেদন, মেয়র যেন তনুশ্রীর একটা চাকরি করে দেন। না হলে পরিবারটা ভেসে যাবে। প্রসঙ্গত, চট্টোপাধ্যায় পরিবারে এখন সদস্য বলতে রয়েছেন তিনজন – সুতন্দ্রার মা তনুশ্রী। এবং সুতন্দ্রার ঠাকুমা ও দিদা।

এদিকে, পানাগড়ের দুর্ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য গাঢ় হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশের দাবি, সুতন্দ্রা মোটেও ইভটিজারদের ‘টার্গেট’ হননি। বরং, তাঁদের গাড়িই অন্য একটি গাড়িকে তাড়া করেছিল এবং সেই গাড়িটির সঙ্গে রেষারেষি করতে গিয়েই উলটে যায় সুতন্দ্রাদের গাড়িটি। যার জেরে অকালে চলে যেতে হয় ২৭ বছরের সুতন্দ্রাকে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *