কুমোরটুলি ঘাটে আসা দুই মহিলা কারা?‌ কোথায় বাড়ি?‌ দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ - 24 Ghanta Bangla News
Home

কুমোরটুলি ঘাটে আসা দুই মহিলা কারা?‌ কোথায় বাড়ি?‌ দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ

Spread the love

কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে দুই মহিলা। আর এখন তাদের চলছে দফায় দফায় জেরা। কিন্তু এই দুই মহিলার অপরাধ কী?‌ কেন আটক করা হয়েছে?‌ এইসব প্রশ্নের উত্তরে হাড়হিম হয়ে যাওয়ার অবস্থা তদন্তকারীদের। কারণ নীলরঙের ট্রলি ব্যাগে করে দেহ গঙ্গায় ভাসাতে নিয়ে এসেছিল তারা। যে ঘটনা নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে শহর কলকাতার কুমোরটুলি ঘাট চত্বর। এই দুই মহিলার চালচলন দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা এই দু’‌জনকে চেপে ধরতেই ট্রলি ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে দেহ। এই দুই মহিলার নাম ফাল্গুনী ঘোষ এবং আরতি ঘোষ। ফাল্গুনী সম্পর্কে আরতির মেয়ে। এদের বাড়ির ঠিকানা মধ্যমগ্রাম থানার অন্তর্গত মধ্যমগ্রাম পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিরেশপল্লী। সেখানেই একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে প্রায় আড়াই বছর ধরে থাকছিল ফাল্গুনী এবং আরতি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, হামেশাই রাতের অন্ধকারে অচেনা পুরুষদের আসতে দেখা যেত ওই ঘরে। পাড়া–প্রতিবেশীর সঙ্গেও ফাল্গুনী–আরতির সম্পর্ক খুব একটা ছিল না। আর যেটুকু ছিল তাও খুব খারাপ। কারণ পাড়ার লোকজন এই বিষয়টি নজর করে প্রতিবাদ করেছিল। আর তাই তাদের সঙ্গে প্রতিবেশীদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। এবার ধরা পড়ার পর ট্রলি ব্যাগে কুকুরের দেহ আছে বলে কুমোরটুলি ঘাটে চালাতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু শেষমেশ ধরা পড়েই যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা চাপ দিতেই মহিলার দেহ বেরিয়ে পড়ে। আর পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদে ফাল্গুনী এবং আরতি স্বীকার করেছে যে, দেহটি এক মহিলার। আর ওই দেহটি আসলে সুমিতা ঘোষ নামের এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে সুমিতা ফাল্গুনীর পিসিশাশুড়ি।

আরও পড়ুন:‌ সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনের রিপোর্ট পেশ পেশাদার সংস্থার, টেক স্যাভি রুটে লালপার্টি

এই গটনা সামনে আসতেই ফাল্গুনী–আরতির প্রতিবেশীদের দাবি, শেষ কয়েকদিন আগে এক মহিলাকে ওই বাড়িতে রাতে আসতে দেখা যায়। তাকে দেখে এলাকার কুকুর চেঁচালে আর এক প্রতিবেশী সেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। তারপর থেকে কেউই জানেন না কেমন করে এই ঘটনা ঘটল। আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ দেখে তাজ্জব হয়ে যান এলাকাবাসী। এটি খুনের ঘটনা কিনা সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুন কি মধ্যমগ্রামেই হয়েছিল?‌ উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে সূত্রের খবর, ওই দুই মহিলা এখনও ভেঙে পড়েনি। পুলিশের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছে। তবে সেসব কতটা সত্যি সেটা ক্রসচেক করা হচ্ছে।

এছাড়া ফাল্গুনী–আরতির কাছ থেকে শিয়ালদা–হাসনাবাদ লাইনের কাজীপাড়া স্টেশনের টিকিট পাওয়া গিয়েছে। মঙ্গলবার এই টিকিট কাটা হয়েছিল। ওখান থেকেই মা–মেয়ে কলকাতায় এসেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তার পর হলুদ ট্যাক্সি ধরে প্রথমে প্রিন্সেপ ঘাটে তারা যায়। সেখানে বিশেষ সুবিধা না হওয়ায় তারা চলে যায় কুমোরটুলি ঘাটে। আর সেখানে খুঁজতে থাকে ফাঁকা জায়গা। আর সেটা দেখেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। ঘাটের কাছেই একটি ঝোপে মৃতদেহ ভরা ট্রলি ব্যাগটি ফেলার তোড়জোড় করতেই ঘিরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর খবর দেয় পুলিশকে। পুলিশ দু’জনকে আটক করে নিয়ে যায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *