Donald Trump: ইউক্রেনের মাটির তলায় সত্য়িই আছে ‘সোনা’? নাকি ট্রাম্পকে বোকা বানাচ্ছেন জেলেনস্কি? – Bengali News | Is zelensky making trump fool saying about rare earth minerals
ওয়াশিংটন: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লোদোমিক জেলেনস্কিকে বাদ দিয়েই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। আর সেই আলোচনার নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেলেনস্কির অনুপস্থিতি নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে তারই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন এক বিশেষ অফার। তাঁর প্রস্তাব ছিল, ইউক্রেনে যে বিরল খনিজ আছে, তা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করবেন। বদলে তাঁর দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। তবে পরে সেই চুক্তির পথে আর হাঁটেননি জেলেনস্কি।
খনিজ নিয়ে চুক্তিতে রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি ইউক্রেনের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ইউক্রেন যেভাবে আমেরিকার সমালোচনা করেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। ওদের উচিত স্বর নামিয়ে সরাসরি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দেওয়া। উল্লেখ্য, ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ইউক্রেনের বিপুল খনিজ সম্ভার ব্যবহার করতে পারবে আমেরিকা। একইসঙ্গে আমেরিকার সাহায্যও পাবে ইউক্রেন।
জানা যায়, অন্তত ১০৯ রকমের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে ইউক্রেনে। এর মধ্যে রয়েছে টাইটেনিয়াম, লিথিয়াম, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি। রয়েছে তেল ও গ্যাসের খনিও। ‘কিভ স্কুল অব ইকনমিকসে’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সব খনি এমন জায়গাতেও আছে,যা অধিকার করে রেখেছে রাশিয়া। তবে ওইসব খনিজের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এরই মধ্যে উঁকি দিচ্ছে এক নতুন প্রশ্ন।
ইউক্রেনের এক সাংসদ বলছেন, খনিজের কথা বলে ট্রাম্পকে বোকা বানাচ্ছেন জেলেনস্কি। আরত্যোম মিত্রুক নামে ওই এমপি বরাবরই জেলেনস্কি সরকারের সমালোচনা করে এসেছেন। গত বছর এক পুলিশকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠার পর ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, গোটা বিশ্বকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি। ওই এমপি বলেন, “প্রথমত, ওইসব বিরল খনিজ যেখানে রয়েছে, সেখানে এখন সেনা উপস্থিত। তাছাড়া ওই সব খনিজে মূল্য নির্ধারণ কেউ করতে পারেনি এখনও।” তাঁর দাবি, ইউক্রেনে যদি সত্যিই এত খনিজ থাকত তাহলে ওই দেশের সংস্থাই ব্যবসা শুরু করে দিত। জেলেনস্কি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মার্কিন বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, ইউক্রেনের এমন দাবি সত্যি নয়। এর আগে আফগানিস্তানেও লিথিয়ামের স্বপ্ন দেখেছিল আমেরিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দিবাস্বপ্নে পরিণত হয়। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছেন, ইউক্রেনে প্রচুর মূল্যবান খনিজ নেই। সেগুলি কতটা ব্যবহারযোগ্য, তারও কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই।