Earth: অক্সিজেনহীন হয়ে পড়বে পৃথিবী! কবে বলে দিলেন বিজ্ঞানীরা – Bengali News | When will Oxygen run out on earth, scientist said the date
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গ্রহে প্রাণের সন্ধান চালাচ্ছেন। মঙ্গল থেকে চাঁদ চলছে গবেষণা। তবে পৃথিবী নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা উদ্বেগকে আর কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন পৃথিবীতে এমন এক দিন আসতে চলেছে যখন সমস্ত অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে। মানুষের জীবন শেষ হয়ে যাবে। কবে ঘটবে সেই ঘটনা তাও বলে দিয়েছে গবেষণা।
কবে পৃথিবী থেকে প্রাণ নিঃশ্বেষিত হবে তা খুঁজে বার করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথম আবিষ্কার করেন কী ভাবে পৃথিবী এবং এর পরিবেশে গ্যাসের উৎপত্তি। তারা কী ভাবে বদলে গেল? জলবায়ু, জীববিজ্ঞান এবং ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনগুলিও তুলে ধরেন। ন্যাচারাল জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে পৃথিবী একদিন বিপুল পরিমাণে মিথেন গ্যাস ভরে যাবে। শেষ হয়ে যাবে অক্সিজেন।
গবেষক কাজুমি ওজাকি এই বিষয়ে বলেন, “আমরা এটি খুঁজে বের করার জন্য জৈব-ভূ-রাসায়নিক এবং জলবায়ু মডেল ব্যবহার করেছি।” গবেষণায় বিশ্লেষণ করা দেখানো হয়েছে কি ভাবে পৃথিবীতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। গবেষকদের দাবি আগামী এক বিলিয়ন বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে ধ্বংস হয়ে যাবে অক্সিজেন। ভবিষ্যতে অক্সিজেনের ঘাটতি সৌর প্রবাহে ব্যপক পরিবর্তনের কারণে হবে। নক্ষত্রগুলির তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের বয়স বাড়ছে। অক্সিজেনের অভাবের নেপথ্যে এটাই মূল কারণ। ভবিষ্যতে, নক্ষত্রদের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং যার প্রভাব পড়বে সরাসরি। গবেষণা অনুসারে পৃথিবীতে এমন পরিস্থিতি প্রথমবার ঘটবে তা নয়। আগেও ঘটেছে, বিজ্ঞানীদের দাবি পৃথিবীর নির্মাণের সময় এই একই পরিস্থিতি ছিল।
গবেষকদের দাবি শেষবার পৃথিবীতে অক্সিজেনের অভাব আর্কিয়ান ইওন যুগে তৈরি হয়েছিল। তা আজ থেকে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন বছর আগেকার কথা। সেই সময়ে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ঘাটতি ছিল। বায়ুমণ্ডলের ২১% অক্সিজেন।
বায়ুমণ্ডলে এই ব্যপক পরিবর্তন, মানুষ সহ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। অতিরিক্ত তাপ এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা একটি গবেষণা অনুসারে পৃথিবীর অনেক অংশ একত্রিত হয়ে নতুন মহাদেশ তৈরি হবে। সেই বিশাল এলাকা প্রচণ্ড তাপদাহের সম্মুখীন হবে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৫০ °সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা। যা গ্রিনহাউস প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলবে।