‘‌দু’টো চা–ল্যাবরেটরি প্রস্তুত করা হবে উত্তরবঙ্গে’‌, নবান্নের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা মলয়ের - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘‌দু’টো চা–ল্যাবরেটরি প্রস্তুত করা হবে উত্তরবঙ্গে’‌, নবান্নের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা মলয়ের

Spread the love

বাংলার উৎপাদিত চা–পাতায় ভেজাল মেশানো হচ্ছে। আর ভাল চা–পাতা বিদেশে রফতানি হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলার চা–পাতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলার নাগরিকরাই। এই অভিযোগ বেশ কিছুদিন আগে করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বন্ধ চা–বাগান খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে চা–বাগান শ্রমিকদের স্বার্থে কাজ করেছেন। এমনকী চা–শ্রমিকদের পাট্টাও দিয়েছেন। এবার উত্তরবঙ্গের চা–শিল্প নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই চায়ের বিষয় নিয়ে নবান্নে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক।

এই বৈঠকে উঠে আসে নেপাল থেকে আসা চায়ে ভেজাল মিশিয়ে দার্জিলিং চা বলে চালানো হচ্ছে। এমন অভিযোগ পাহাড় থেকে সমতল নানা জায়গায় মিলেছে। আর উত্তরবঙ্গে যে চা–পাতা উৎপাদন হয় তার ভাল অংশটি বিদেশে রফতানি হয়ে যায়। যে অংশ বাংলায় থাকে তার মধ্যে কেউ বা কারা ভেজাল মিশিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এমন অবৈধ কারবারে লিপ্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার থেকে প্রতিবেশী অসমের ডাস্ট চা–পাতার দিকেও কড়া নজরদারি থাকবে রাজ্য সরকারের। বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলির দিকেও নজর রাখবে প্রশাসন।

আরও পড়ুন:‌ ‘মানুষ মরে গেলে আপনাদের ঘুম ভাঙবে?’ কলকাতা পুরসভাকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

নবান্নের ওই বৈঠকে সরাসরি এবং ভার্চুয়াল মিলিয়ে রাজ্য সরকার, চা বাগান মালিকদের সংগঠন, ক্ষুদ্র চা–কৃষকদের সংগঠন এবং ভারতীয় টি বোর্ডকে আমন্ত্রণ করা হয়। আর শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং শ্রম দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চা শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, সাম্প্রতিক অতীতে চা নিয়ে এমন বৈঠক দেখা যায়নি। এই বৈঠক শেষে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে চা–শিল্প নিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। নিম্নমানের ভেজাল চা, ডাস্ট চায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। চায়ের ভিতর রাসায়নিক পদার্থ কতটা রয়েছে, তা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে কিনা সেটা পরখ করতে দু’টো ল্যাবরেটরি প্রস্তুত করা হবে উত্তরবঙ্গে।’

চা শিল্পকে চাঙ্গা রাখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করার ফলে রাজ্য সরকারকে সক্রিয় হতে হচ্ছে বলে দাবি শ্রমমন্ত্রীর। টি অ্যাসোশিয়েসন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান চিন্ময় ধরের বক্তব্য, ‘এই বৈঠকে গত ১০ বছরে উত্তরবঙ্গের চা–শিল্প যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয়েছে সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমাধানের রাস্তা দ্রুত তৈরি করা হবে।’ চা–বাগানের ক্ষুদ্র কৃষকদের সংগঠনের কর্তা বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর দাবি, ‘এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। রাজ্য সরকার নতুন টাস্ক ফোর্স গঠন এবং ল্যাবরেটরি নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’‌ আর মলয় ঘটকের কথায়, ‘‌শুধুমাত্র চা–বাগানের অনাবাদি জমি, যেখানে আর কোনওদিন চা–গাছ তৈরি সম্ভব নয় তেমন জমিতেই পর্যটন শিল্প হতে পারে। চা শিল্পকে নষ্ট করে নয়।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *