TMC: একের পর এক চেক বাউন্স, আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের জালে সপুত্র প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর - Bengali News | Former TMC councilor and his son arrested on charges of financial fraud in Durgapur - 24 Ghanta Bangla News
Home

TMC: একের পর এক চেক বাউন্স, আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের জালে সপুত্র প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর – Bengali News | Former TMC councilor and his son arrested on charges of financial fraud in Durgapur

Spread the love

প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মানস রায় (ফাইল ফোটো)

দুর্গাপুর: আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল দুর্গাপুর নগরনিগমের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরকে। ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলরের নাম মানস রায়। তাঁর ছেলে অভ্রনীল রায়কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেইসব অভিযোগে বলা হয়েছে, জিনিস কিনে চেক দিয়েছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর। কিন্তু, সেইসব চেক বাউন্স করেছে।

দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের এক মোবাইল ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দলের এক নেতাকে উপহার দেওয়ার নাম করে জানুয়ারিতে তাঁর কাছ থেকে দুটি দামি মোবাইল নিয়েছিলেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মানস রায় ও তাঁর ছেলে অভ্রনীল রায়। মোবাইল দুটির বাজারমূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। অভিযোগ, মোবাইল কিনে চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই চেক বাউন্স করে। তারপর মোবাইলগুলির টাকা চাইলেও তা দিতে টালবাহানা করেন। ওই ব্যবসায়ী সাংসদ কীর্তি আজাদের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত ঘটনা জানান। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

আবার দুর্গাপুরের মেনগেট এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তাঁর কাছ থেকে একটি পুরনো চারচাকা গাড়ি কেনেন মানস রায়। গাড়ির দাম বাবদ আট লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার চেকও দেন। পরদিনই ব্যাঙ্কে চেক জমা করলে বাউন্স হয় চেক। পরপর ছয়টি চেক বাউন্স হওয়ার পরেই দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আসিফ। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আরও একটি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। জানা গিয়েছে, বেনাচিতি বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত মানস রায় ও তাঁর ছেলে অভ্রনীল রায়কে গ্রেফতার করে। বুধবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে তাঁদের।

এই খবরটিও পড়ুন

মানস রায় দুর্গাপুরের গোপালমাঠের বাসিন্দা। ২০১৭ সালে দুর্গাপুর নগরনিগমের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

অভিযোগকারী মহম্মদ আসিফ বলেন, অনলাইন একটি সাইটে নিজের গাড়িটি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। তা দেখেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন কাউন্সিলর। ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় গাড়িটি কাউন্সিলরকে তিনি বিক্রি করেন। চেকও দেন কাউন্সিলর। আর সেই চেক ভাঙাতে গিয়েই মাথায় হাত পড়ে আসিফের। তাঁর কথায়, “পরদিন ব্যাঙ্কে চেক নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু, চেক বাউন্স করে। আমি তখন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলরের বাড়িতে যাই। উনি আবার চেক দেন। এমনভাবে ৬ বার চেক দিয়েছেন। প্রত্যেকবার চেক বাউন্স করেছে।” ধৃত কাউন্সিলর ও তাঁর ছেলের কঠোর শাস্তির দাবি করলেন আসিফ। প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, “আমার ক্যানসার আক্রান্ত বোনকে ভাড়াগাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছি। আর প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তাঁর ছেলে আমার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন।”

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা বলেন, “এই মামলার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই। এটা একেবারেই একটি আর্থিক প্রতারণার মামলা। তাতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” ধৃতদের আদালতে তুলে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চাইবে বলে তিনি জানান।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *