সম্পাদ্যে ‘প্যাঁচ’, রীতি ভাঙা হল পরিমিতিতে- মাধ্যমিকের অঙ্কে নজর কাড়ল ২ প্রশ্ন, বাংলার মুখ
মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যে একেবারে সহজ হয়নি, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অধিকাংশ শিক্ষকের সেটাই মত। তাঁদের মতে, এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় যা প্রশ্ন হয়েছে, তাতে একটা স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা হয়েছে। সব জানা জিনিস থেকেই প্রশ্ন এসেছে। কিন্তু একটু বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে বুঝতে হবে প্রশ্নটা। বুদ্ধি খাটিয়ে কৌশলটা ধরতে পারলেই সব অঙ্ক সোজা মনে হবে। ওই কৌশলটা ধরার উপরেই নির্ভর করবে যে কোন পরীক্ষার্থী কত নম্বর পাবে অঙ্কে। তারইমধ্যে শিক্ষকদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিল দুটি প্রশ্ন। একটি প্রশ্ন পরিমিতি অংশের। আর অপরটি সম্পাদ্যের প্রশ্ন।
সাধারণত এরকম জানতে চায় না, বললেন শিক্ষক
পরিমিতি অংশের যে প্রশ্নটা রীতি ভেঙেছে, সেটা ব্যাখ্যা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নঙ্গী হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক শেখ রিয়াসত আলি বলেছেন, ‘১৪.১-র দাগে শীর্ষকোণ সংক্রান্ত একটা প্রশ্ন করা হয়েছে। একটা শঙ্কুর শীর্ষকোণ জানতে চেয়েছে। সাধারণত সেটা চায় না। ওর মধ্যে ত্রিকোণমিতি ঢোকার সম্ভাবনা আছে।’
৩ বছর একই ধাঁচে প্রশ্ন, এবার শুধু সমকোণী ত্রিভুজ বলে দেয়নি!
আবার কলকাতার হিন্দু স্কুলের অঙ্ক শিক্ষক তাপস পুরকাইত সম্পাদ্য অংশের ১১.১ দাগের প্রশ্নের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে একইরকম প্রশ্ন এসেছিল। এবার একটু ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘২০২৩ সালে পড়েছিল – একটি সমকোণী ত্রিভুজ অঙ্কন করো, যার সমকোণ সংলগ্ন দুটি বাহু দেওয়া আছে। একটি অন্তর্বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে। ২০২৪ সালে আবার বলে দিয়েছিল যে একটি সমকোণী ত্রিভুজ অঙ্কন করো। যার সমকোণ সংলগ্ন দুটি বাহু বলে দেওয়া হয়েছে। সেটার পরিবৃত্ত অঙ্কন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই জিনিস এল ২০২৫ সালে। এবার শুধু সমকোণী ত্রিভুজের বিষয়টা উল্লেখ করে দেয়নি। বলেছে যে ছয় সেমি, আট সেমি এবং ১০ সেমির একটি অন্তর্বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে। এভাবেই একটু ঘুরিয়ে এসেছে। আমাদের সম্পাদ্যে পাঁচ নম্বর থাকে। ওই ত্রিভুজটা আঁকার জন্য এক নম্বর দেওয়া হয়। তারপর অন্তর্বৃত্ত বা পরিবৃত্ত অঙ্কনের জন্য চার নম্বর থাকে। ২০২৩ সাল ও ২০২৪ সালে সমবৃত্ত বলে দিয়েছিল। ২০২৫ সালে সমবৃত্ত বলেনি। কিন্তু ওটা সমকোণী হবেই।’
তবে দুই শিক্ষকই জানিয়েছেন যে সার্বিকভাবে প্রশ্ন ভালো এসেছে। যারা বুঝে অঙ্ক করে পরীক্ষা দিতে গিয়েছে, তাদের সমস্যা হবে না। নঙ্গী হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক বলেছেন, ‘এমনি প্রশ্ন ভালো হয়েছে। ছেলেমেয়েদের কোনও অভিযোগ থাকার কথা নয়।’ একইসুরে হিন্দু স্কুলের শিক্ষক বলেছেন, ‘যারা ভালোমানের পড়ুয়া, তাদের পরীক্ষা খুব ভালো হবে।’
মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষার সেই দুটি প্রশ্ন
১১ (i) জ্যামিতিক পদ্ধতিতে ২√৩-এর মান নির্ণয় করো।
(ii) ৬ সেমি, ৮ সেমি ও ১০ সেমি বাহুবিশিষ্ট একটি ত্রিভুজ অঙ্কন করো। ওই ত্রিভুজটির অন্তর্বৃত্ত অঙ্কন করো।
১৪.১ দাগের প্রশ্ন: ‘একটি লম্ব বৃত্তাকার শঙ্কুর বক্রতলের ক্ষেত্রফল 154√ ২ বর্গসেমি এবং ভূমির ব্যাসার্ধ ৭ সেমি হলে উহার শীর্ষকোণ নির্ণয় করো।’