CPIM on Mahakumbh: ‘কুম্ভে পদপিষ্টরা ধর্মভীরু’, সিপিএমের দলিল পড়ে ‘মুসলমানের দল’, মন্তব্য বিজেপির – Bengali News | Deceased pilgrims at Kumbh were ‘religiously minded’, that’s what the CPM is saying, BJP slams saying Muslim’s party
কলকাতা: কুম্ভে মৃত পুণ্যার্থীরা ‘ধর্মভীরু’। হ্যাঁ, এমনটাই বলছে সিপিএম। তা নিয়েই এবার তুমুল চর্চা বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এদিনই শুরু হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কেন্দ্র সপ্তদশ সম্মেলন। পতাকা উত্তোলন করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব। সামনে এসেছে সম্মেলন সংক্রান্ত দলিল। এই দলিলে ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় শোকপ্রস্তাব অংশে কুম্ভে নিহত পুণ্যার্থীদের ‘ধর্মভীরু’ বলা হয়েছে। তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।
দলিল লেখা, ‘কুম্ভ মেলায় সরকারি চূড়ান্ত অব্যবস্থার শিকার হয়ে বহু ধর্মভীরু সাধারণ মানুষের জীবনহানি ঘটেছে।’ এদিকে ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু নিধনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। তা নিয়ে শোকপ্রস্তাবে কোনও উল্লেখ নেই কেন? প্রশ্ন তুলছে একাধিক রাজনৈতিক দল। আছে আমেরিকার বাফেলায় ১০ কৃষ্ণাঙ্গর মানুষের হত্যা, ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল, গাজা, ওয়েস্টব্যাংকে ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যু নিয়ে শোকজ্ঞাপন করেছে। কিন্তু, ব্রাত্য থেকে গিয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে এই দলিলেই আবার সঙ্ঘের সঙ্গে তৃণমূল জুড়ে শানানো হয়েছে তীব্র আক্রমণ। দলিলের ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘রাজ্যের পরিস্থিতি’র ৪.১৩ পয়েন্টে বলা হচ্ছে, তৃণমূলের মদতে রাজ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা RSS-এর স্কুল বাড়ছে। তবে খারিজি মাদ্রাসার সংখ্যা নিয়ে একটা শব্দও নেই। ওই একই পয়েন্টে আরও বলা হচ্ছে, সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িকতার জন্য রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ছে সংখ্যালঘু মৌলবাদ। তবে সিপিএম এও স্বীকার করল, রাজ্যে সংখ্যালঘু মৌলবাদ বাড়ছে। যদিও, এর কারণ হিসেবে সেই হিন্দুত্বকেই নিশানা করেছে তারা। অবশ্য সরাসরি ইসলামিক মৌলবাদ শব্দটা ব্যবহার করা হয়নি। তা নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে উঠে আসছে নানা মত।
তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, “সিপিআইএম আগে লিখুন যে আমরা নিজের আর ধর্মনিরপেক্ষ বলি না। আমরা আর কমিউনিস্ট না। আমরা আসলে মুসলমানের দল। এমনিতেই সনাতনী বাঙালীরা জেগেছে। সিপিআইএমের দলিল দেখে তাঁরা তাঁদের ভাবনা-চিন্তা স্পষ্ট করবে।”