একলা মায়ের ঘর ছেড়ে বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয়, সেখানেই মিলল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর দেহ!, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

একলা মায়ের ঘর ছেড়ে বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয়, সেখানেই মিলল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর দেহ!, বাংলার মুখ

Spread the love

বান্ধবীর বাড়ি থেকে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় দানা বেঁধেছে রহস্য। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি সংলগ্ন নকশালবাড়ি ব্লকে। পাশাপাশি, ঘটনা ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা তথ্য উঠে আসছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াত ওই ছাত্রীর নাম অর্পিতা মণ্ডল। বয়স ১৬ বছর। প্রথমেই যে প্রশ্ন উঠছে, তা হল – কেন অর্পিতা বান্ধবীর বাড়িতে থেকে মাধ্যমিক দিচ্ছিল?

একটি সূত্র দাবি করছে, গত রবিবার (মাধ্যমিক শুরুর আগের দিন) মা রূপা মণ্ডলের সঙ্গে ঝগড়া হয় অর্পিতার। তাই সে তাদের নকশালবাড়ির খালপাড়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং সটান গিয়ে ওঠে তার বান্ধবী – সুজাতা শৈবের মেচবস্তির বাড়িতে।

এর থেকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না অর্পিতার? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে আবার অন্য একটি সূত্র মারফত দাবি করা হয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে অর্পিতার বাবা মারা যান। অর্পিতার মা একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। যা রোজগার করেন, তাতেই কোনও মতে সংসার চালান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, অর্পিতাকে অনেক কষ্ট পড়াশোনা করাচ্ছিলেন তাঁর মা। সে নকশালবাড়িরই নন্দপ্রসাদ হাইস্কুলের ছাত্রী ছিল। এবং মেধাবী ছাত্রী হিসাবেই পরিচিত ছিল। আবার, তাঁর মাকে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, পরীক্ষার কারণে অর্পিতা নাকি তার মাকে নিজের মোবাইলটি দিয়ে গিয়েছিল। তাহলে কি এ নিয়ে কোনও অশান্তি হয়েছিল মা-মেয়ের মধ্যে? এর উত্তর এখনও জানা যায়নি।

ইতিমধ্যেই মাধ্যমিকের একাধিক পরীক্ষা হয়েছে এবং অর্পিতা সেই পরীক্ষাগুলি দিয়েছে। আর সেটা সে দিয়েছে বান্ধবীর বাড়ি থেকে যাতায়াত করে। কিন্তু, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘুমোনোর পর আর তার ঘুম ভাঙেনি। অনেক ডাকাডাকি করেও অর্পিতার সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপরই তার মাকে খবর দেওয়া হয়। এবং তিনি অর্পিতার বান্ধবীর বাড়ি পৌঁছলে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে নকশালবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয় এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন অর্পিতার মা রূপা। তিনি নিজেও অসুস্থ। ফলত, মেয়ের মৃত্যু নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বেশি কথা বলতে রাজি হননি। ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। কীভাবে কী হল, বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা।

অন্যদিকে, কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে । মৃত্যুর কারণ জানতে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে বলা হয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

সূত্রের দাবি, শুক্রবার সকালেই ওই এলাকায় যান একজন ম্যাজিস্ট্রেট । তিনি গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথাও বলেন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *